রাজনগরের উত্তরভাগে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আলোচনা সভা

ফন্ট সাইজ:

দিন যতই যাচ্ছে বনাঞ্চল কেটে মানুষ উজাড় করছে। একদিকে যেমন কমছে ঝোপঝাড় তেমনি কমছে এসব বনাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা মেছো বাঘ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এসব প্রাণী আমাদের পরিবেশ রক্ষা করলেও আমরা পারছি না তাদের আবাসভূমি রক্ষা করতে। তাই দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের বন্যপ্রাণী। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। আর বিশেষ করে রাজনগরের বিভিন্ন চা বাগানের বনবাদাড়ে বাড়তে থাকা এসব প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মাঝে মেছো-বিড়ালসহ বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতার লক্ষ্যে রাজনগরের উত্তরভাগ চা বাগানের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উত্তরভাগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিগেন্দ্র চন্দ্র সরকার চঞ্চল।

উত্তরভাগ চা বাগানের উপ-ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন— রাজনগর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কবির মিয়া, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিতু মিয়া, উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা বাগানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. লোকমান চৌধুরী, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মনাফ ও শ্রীমঙ্গল ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স ম্যানেজার শিমুল নাথ প্রমুখ। এ ছাড়াও রাজনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওয়াল কালাম বেগ, দৈনিক নয়াদিগন্তের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ, দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মো. ওয়াদুদ, ইউপি সদস্য মো. রকিব আলী, বন্যপ্রাণী গবেষক সাফাত হোসেন ডা. সৌহার্দ শোভন ফ্রেন্ড সুপারভাইজার চঞ্চল গোয়ালা, আব্দুল গলিন, মো. মাসুক মিয়া, মাসুক চৌধুরী, সুভাষ পাশী, ইউপি সদস্য রেবিনা আক্তার, জায়েদা বেগম ও শান্তা হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা মেছো বাঘ, বিড়ালসহ সব ধরনের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বনাঞ্চলের গাছপালা নির্বিচারে কেটে ফেলার কারণে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। ফলে এসব প্রাণী প্রতিনিয়ত বনাঞ্চল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। এ পরিস্থিতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। বনাঞ্চল ধ্বংস ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, মেছো বিড়ালসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। অফিসে বসে সময় না কাটিয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানান তারা।