মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারবে নাকি জিতবে তা এখনও অজানা। যদি হারে, তবে ব্যবধান ছোট কিংবা বড় যাই হোক না কেন দোষারোপের এক বড় খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিপাবলিকানরা। দলটির নেতারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেন, এর মূল দায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার বিভিন্ন পদক্ষেপের। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন অ্যাক্সিওস।
পুনর্নিবাচিত রিপাবলিকান সিনেটররা প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে দোষারোপ করবেন না। তবে বিদায়ী আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প বা তার দলের সমালোচনা করতে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্পও সিনেট রিপাবলিকানদের পাল্টা আক্রমণ করতে পারেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে, রিপাবলিকানরা হাউসে হারলেও সিনেট ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প একে নিজের বিজয় বলে দাবি করতে পারেন। এক জাতীয় কৌশলবিদ এক্সিওসকে জানান, এটি ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন এবং জয় বা পরাজয় সবকিছুর কৃতিত্ব তার।
আলাস্কা থেকে মেইন পর্যন্ত ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের কারণে গ্যাস ও ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এটি রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন জানান, তাদের প্রধান সমস্যা শুল্ক নয়, বরং যুদ্ধ এবং গ্যাসের দাম। এছাড়া ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে বিশেষ করে কৃষি অঞ্চলে খরচ বেড়েছে। মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করে এই শুল্ক যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থীরাও দলের ভেতরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কেন প্যাক্সটন এবং সাউথ ক্যারোলাইনার ডারলিন গ্রাহামের মতো প্রার্থীদের কারণে রিপাবলিকানদের অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া ক্যানসাসের রজার মার্শাল এবং মিসিসিপির সিন্ডি হাইড-স্মিথের মতো বর্তমান সিনেটরদের বিরুদ্ধে অহংকার ও অলসতার অভিযোগ উঠেছে। ওহাইওতে বিবেক রামাস্বামীর মতো দুর্বল গভর্নর প্রার্থীদের কারণেও সিনেট প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জর্জিয়ায় ব্রায়ান কেম্পকে সিনেট নির্বাচনে দাঁড় করাতে ব্যর্থ হয়েছে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছেন। ট্রাম্পের বিশাল রাজনৈতিক তহবিল থাকলেও দুর্বল প্রার্থীদের রক্ষায় সেই অর্থ অনেক দেরিতে পৌঁছেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। এছাড়া অর্থনীতিতে মনোযোগ দেয়ার বদলে ট্রাম্প অন্যান্য বিষয়ে মনোযোগ দেয়ায় রিপাবলিকান নেতারা হতাশ হয়েছেন।
