মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন। বিশেষ করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে তারা নতুন করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। বেশ কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বেইজিংয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে আতিথেয়তা দেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানিকে জানান, এই অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে আলোচনা ও সমঝোতাই একমাত্র কার্যকর পথ। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সংঘাত শুরু করার জন্য বেইজিং সবসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানায়, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন এই মাসে ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন।
এদিকে ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান চীন সফর করছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানান, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল পরাশক্তিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়। হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ওমান কৌশলগত এই নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। শি জিনপিং ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু বলে বর্ণনা করেন। এই সফরের সময় চীন ও ওমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ জ্বালানি এবং সাপ্লাই চেইনসহ ১৪টি সহযোগিতা চুক্তিতে সই করেছে। এছাড়া একটি মুদ্রা বিনিময় চুক্তিও হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে নতুন করে আলোচনা শুরু করারও আহ্বান জানান।
