টোকিওতে রাস্তায় যৌনকর্মীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে কাবুকিচো এলাকায় এই প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যটনের বিস্তারের কারণে এই নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাপানের আইন পরিবর্তনের জোরালো দাবি উঠেছে। বিদ্যমান আইনে শুধু নারীদেরকেই সাজা দেয়া হয়। টোকিওর রাতের অর্থনীতিতে কাবুকিচোর বেশ পরিচিতি রয়েছে। তবে এর সুপরিচিত নিয়ন সাইনের পেছনে একটি অন্ধকার দিকও আছে। এখানকার গলিগুলোতে নারীরা অর্থের বিনিময়ে যৌনসেবা দিচ্ছেন। তিন বছর আগে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাস্তায় যৌনকর্মীরা এখন বিভিন্ন অপব্যবহার এবং যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিতে আছেন। গত বছর পুলিশ কাবুকিচোর একটি পার্কের কাছ থেকে ১১২ জন নারীকে গ্রেপ্তার করে। এই পরিস্থিতিতে জাপান আন্তর্জাতিক যৌন পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই কারণে আইনপ্রণেতা এবং আন্দোলনকারীরা আইন কড়াকড়ির দাবি তুলেন।
তারা চাইছেন প্রথমবারের মতো রাস্তায় যৌনসেবা প্রদানকারী নারীদের পাশাপাশি তা গ্রহণকারী পুরুষদেরও শাস্তির আওতায় আনা হোক। জাপানের ১৯৫৬ সালের পতিতাবৃত্তি প্রতিরোধ আইনে প্রকাশ্যে যৌনসেবা দেয়াকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর শাস্তি হিসেবে ৬ মাসের জেল বা ১৫ হাজার ৮৬৯ টাকা (১২৮ ডলার) জরিমানা হতে পারে। তবে যারা যৌনসেবা গ্রহণ করেন, তাদের কোনো শাস্তি হয় না। কাবুকিচোর এই নতুন যৌনকর্মীদের খদ্দেরদের মধ্যে বিদেশি পুরুষদের সংখ্যা বাড়ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে এসব তথ্য পান এবং অনুবাদের অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি দরদাম করেন।
গত সেপ্টেম্বরে বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল আইন পরিবর্তনের সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বলা হয়, বর্তমান আইনটি ভারসাম্যহীন এবং সেবা প্রদানকারীদের মতো সেবা গ্রহণকারীদেরও নিয়মের আওতায় আনা উচিত। তবে কিছু আন্দোলনকারী মনে করেন, আইন সংশোধনের বদলে যৌনকর্মকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত। তারা জানান, পুরুষদের শাস্তির আওতায় আনা হলে নারীদের ঝুঁকি আরও বাড়বে। কারণ তখন খদ্দেররা গোপনে দেখা করার জন্য জোর করবে। প্রচারণা সংস্থাগুলোর মতে, কাবুকিচোতে এক ঘণ্টার জন্য গড়ে ১১ হাজার ৭৭৮ টাকা (৯৫ ডলার) নেয়া হয়। তবে অল্পবয়সী বা আকর্ষণীয় নারীদের জন্য এই ফি আরও বেশি হয়। আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে জানান, নতুন আইন করলেই নারীরা এ ধরনের কাজ থেকে মুক্তি পাবেন না। এর জন্য সরকারের আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন।
