যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আসন সংখ্যা ১০০ টি। কোন দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ৫১ টি আসন পেতে হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে কোনো দল সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে। সিনেটে আসন সংখ্যা ৫০-৫০ হলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে বড় ধরনের লড়াই শুরু হতে পারে। মার্কিন সংবিধানে বা সিনেটের ৪৪টি স্থায়ী নিয়মে এমন কোনো ব্যবস্থার কথা বলা নেই যার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় কোন দল প্রাত্যহিক কার্যক্রমে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ফক্স নিউজ। মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, ধারা ২ অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদাধিকারবলে সিনেটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। কোনো প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে সমান ভোট পড়লে তিনি চূড়ান্ত বা টাই-ব্রেকিং ভোটটি দিয়ে অচলাবস্থা ভাঙতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার দল সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা কমিটিগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না। বর্তমানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। সংবিধানে ‘মেজরিটি লিডার’ বা ‘মাইনরিটি লিডার’ পদের কোনো উল্লেখ নেই, এটি বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে রাজনৈতিকভাবে তৈরি হওয়া একটি ব্যবস্থা। তাই ৫০-৫০ সমতা হলে সিনেট পরিচালনার জন্য দুই দলের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা ভাগাভাগি চুক্তির প্রয়োজন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন সমতা খুব বেশি দেখা যায়নি। ১৮৮১ সালে প্রথমবার সিনেটে সমতা দেখা যায়, সেবার অচলাবস্থা কাটাতে কয়েক মাস সময় লেগেছিল এবং দুজন স্বতন্ত্র সিনেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। এরপর ১৯৫৪ সালেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। আধুনিক ইতিহাসে ২০০০ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের পর সিনেটে ৫০-৫০ সমতা দেখা যায়। ২০০১ সালে রিপাবলিকান নেতা ট্রেন্ট লট এবং ডেমোক্রেট নেতা টম ড্যাশেলের মধ্যে ঐতিহাসিক একটি চুক্তি হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির কারণে রিপাবলিকানরা নামমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও, প্রতিটি কমিটিতে উভয় দলের সমান প্রতিনিধিত্ব এবং সমান বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালেও চাক শুমার এবং মিচ ম্যাককনেলের মধ্যে একই ধরনের চুক্তি হয়।
তবে ২০২৭ সালে নতুন কংগ্রেস শুরু হওয়ার সময় যদি আবারও এমন সমতা তৈরি হয়, তবে তীব্র মেরুকরণের কারণে দুই দলের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকবে কি না তা নিয়ে বিশ্লেষকরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং জেডি ভ্যান্স এই বিষয়ে কী অবস্থান নেবেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে আলাস্কার মতো কোনো রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যদি দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে, তবে ক্যাপিটল হিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। সে ক্ষেত্রে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে। কোনো চুক্তি না হলে সিনেটের কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে এবং জেডি ভ্যান্স বা ডেমোক্রেটদের প্রেসিডেন্ট প্রো টেম্পোরকে সিনেটের ফ্লোরে বিতর্ক পরিচালনার জন্য অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে হবে।
