নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি

রয়টার্স-ইপসোস জরিপ

নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি

ফন্ট সাইজ:

আজ মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। ভোটারদের বড় একটি অংশ মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভোট দেয়াকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সোমবার শেষ হওয়া রয়টার্স-ইপসোসের এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল বলছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানদের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। দেশজুড়ে পরিচালিত জরিপে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কংগ্রেসে কোন দলকে তারা দেখতে চান। এ প্রশ্নে ডেমোক্রেটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৬ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩৮ শতাংশ। রাজনৈতিক পরিভাষায় এ ধরনের প্রশ্নকে ‘জেনেরিক ব্যালট’ বলা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে ডেমোক্রেটদের এই ৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান আগের সপ্তাহে পরিচালিত রয়টার্স-ইপসোসের জরিপের তুলনায় কম। ওই জরিপে রিপাবলিকানদের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন ডেমোক্রেটরা। জেনেরিক ব্যালটের প্রশ্নের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোটাররা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে দেখতে চান, তার সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণকারী অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এবং নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নানা জটিলতা এতে প্রতিফলিত হয় না। কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছেন ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের সদস্যরা। দুই দলের রাজনৈতিক কৌশলবিদদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে ডেমোক্রেটদের। এ পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই মঙ্গলবার নির্বাচন হচ্ছে। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ক্ষেত্রে ডেমোক্রেটদের পথ আরও কঠিন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলাস্কা ও মিশিগানে দলটি আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।

ট্রাম্প সরাসরি নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও এবারের নির্বাচনে তার প্রভাব ব্যাপক। জরিপে অংশ নেয়া ৩২ শতাংশ ভোটার বলেছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাজের প্রতি তারা সন্তুষ্ট। এক সপ্তাহ আগেও এই হার একই ছিল। তবে দুই সপ্তাহ আগে তার জনপ্রিয়তা রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে নেমে এসেছিল। বর্তমান হার সেই রেকর্ডের সামান্য ওপরে। নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বলেছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে তাদের ভোট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। বিপরীতে ১৩ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তাদের ভোট ট্রাম্পের পক্ষে। আর ৩৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট কোনো প্রভাব ফেলছেন না।

জরিপে অংশ নেয়া ৭৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ইস্যুতে কোন দল ভালো করবে, এমন প্রশ্নে ডেমোক্রেটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোটার। রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন ৩২ শতাংশ। ভোট দেয়ার বিষয়ে ডেমোক্রেটদের মধ্যে উৎসাহও তুলনামূলক বেশি বলে মনে হচ্ছে। ভোটার উপস্থিতিতে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশা করছে দলটি। জরিপে ৪৯ শতাংশ ডেমোক্রেট ভোটার বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে তারা ‘খুবই উৎসাহী’। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এ হার ৩৩ শতাংশ। রয়টার্স-ইপসোসের সর্বশেষ এ জরিপে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৭৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নিয়েছেন।