এখন যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন

এখন যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন

ফন্ট সাইজ:

এখন যারা আন্দোলনের নামে সহিংসতা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলন এখন চলছে না। শ্রমিকদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের, সেটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন গার্মেন্টস মালিক নেতারা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। পোশাক শিল্প মালিকরা যারা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারাও অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কাজ করছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, এর পেছনে কিছু শিল্প মালিক জড়িত আছেন। সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এর সঙ্গে জড়িত।

এদিকে বিকালে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেনি। আমরা দেখেছি মুখোশধারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ওখানে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে রোববার মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য খুব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তারা বসবেন। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যথাশিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে সেটি ঘোষণা হতে পারে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করতে পারবেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন—যেন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয় এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়। শ্রমিকদের বিষয়গুলো যেন অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়। সুতরাং, বাস্তবতার নিরিখে মজুরি নির্ধারিত হবে। এখানে অসন্তোষের কিছু নেই।

গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শিল্প মালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। সেই সঙ্গে তারা বলেছেন—কিছু শিল্প মালিক আছে এবং শিল্পকারখানা আছে, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ করেছে। তাদের তালিকা তারা আমাদের প্রদান করবেন। এ ছাড়াও কিছু কিছু শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এখানে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পাঁয়তারা করছে, সে সব সংগঠন এবং নামের তালিকাও আমরা তাদের সরবরাহ করতে বলেছি। তবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক এবং কোনো শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই—যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা সেরকম কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। তাদের সে সমস্ত কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং কিছু কিছু প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করেছি। অডিও আছে, ভিডিও আছে এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপও আছে। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই—এই সরকার শিল্পবান্ধব সরকার। বিনিয়োগ-বাণিজ্যবান্ধব সরকার। রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা সকল পদক্ষেপ নেবো। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের কল্যাণ এবং স্বার্থ সংরক্ষণে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এই সরকার। আমরা সেই লক্ষ্যে ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাবো।

অপর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কিসের আপনারা ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন? পলাতক খুনি, গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তার দোসররা যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, যারা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রেডিশন ট্রিটি অনুসারে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে, যারা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন সেখানে আমরা আবেদন জানিয়েছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছি। সেই জায়গায় ডিসেম্বর কেন, আজকেই যদি তারা প্রত্যাবর্তিত হয়, এক্সট্রাডিটেড হয় আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। কোর্টের রায় অনুসারে আমরা ব্যবস্থা নেবো।