পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন শিলাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার চার দিন পরও পুলিশ হত্যা মামলা নিচ্ছিল না। পরে সোমবার কয়েক হাজার মানুষের মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাওয়ের মুখে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এজাহারে যুবদল নেতা রাসেল মাহমুদসহ দুইজনকে আসামী করা হয়।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে নিহত শিলার স্বজন ও এলাকাবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় অভিযুক্ত রাসেল মাহমুদকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর বাহেরচর বাজারসংলগ্ন একটি বাসা থেকে শিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করতে শিলার পরিবার থানায় গেলে পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে জানিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয়। পরে সোমবার হত্যা মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা।
পরিবারের অভিযোগ, দেড় বছর আগে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করিয়ে শিলাকে বিয়ে করে রাসেল মাহমুদ। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শিলার পৈতৃক সম্পত্তি ও নিজের নামে থাকা জমি এবং নগদ টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকেন রাসেল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিলার পৈতৃক বসতঘর ও দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলে নেন রাসেল। পরে শিলার নামে থাকা জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহত শিলার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রাইসুল ইসলাম কমল অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই রাসেল জমি ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিতে শিলাকে চাপ দিতেন এবং নানাভাবে নির্যাতন করতেন। বসতঘর ও দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার পরও শিলার নামে থাকা জমি লিখে দিতে চাপ দেওয়া হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে।
শিলার প্রথম সংসারের ১১ বছর বয়সী মেয়ে লাবিবা আক্তার অভিযোগ করে বলে, তার মাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন রাসেল মাহমুদ। গত এক বছর ধরে নির্যাতনের অংশ হিসেবে মায়ের সঙ্গে ওঠাবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং রাতে একা ঘুমাতে বাধ্য করা হতো। প্রায়ই গভীর রাতে মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হতো। এসব নির্যাতনের কারণেই তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে অথবা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করে লাবিবা। মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানায় সে। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এখন যেহেতু রেগুলার মামলা হয়েছে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। এরপরও পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা তা দিতে পারেন। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
