বর্ণাঢ্য আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ফন্ট সাইজ:

আনন্দ র‌্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী ও আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হলো। স্কুল থেকে কলেজ এবং কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়া প্রতিষ্ঠানটি সফলতার ২১ বছর পেরিয়ে ২২ বছরে পদার্পণ করল।

সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২রা নভেম্বর সরকারি জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন এবং ক্যাম্পাসে ঘোষণাফলক উন্মোচন করেছিলেন। তারই প্রতিফলনে এবার ২০ অক্টোবরের পরিবর্তে ২রা নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনের পর ভিসির নেতৃত্বে একটি আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ও বাহাদূর পার্ক ঘুরে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনী ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তি, মেধা ও জ্ঞাননির্ভর শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য শুধু কর্মসংস্থান তৈরি কিংবা চাকরিমুখী শিক্ষা দেয়া নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হবে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উন্মুক্ত চিন্তার বিকাশ ঘটবে। শিক্ষার পরিমাণগত অগ্রগতির পাশাপাশি গুণগত পরিবর্তনও জরুরি। শুধু জিপিএ-৫ অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হয় না; শিক্ষার মান, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে হয়।’

অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে দুপুর দেড়টায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন রাখা হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ ও রঙ্গভূমি পরিবেশনায় অংশ নেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যান্ড দলগুলো এতে সংগীত পরিবেশন করে।
দিনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে সন্ধ্যায় কনসার্টে অংশ নেয় নগরবাউল।