যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনা ও বার্তা বিনিময়ের পর ইরানের প্রতিনিধিদল দেশটি ছেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ অবসানে একটি খসড়া চুক্তির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সোমবার আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। আল জাজিরাকে এক কূটনীতিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময়ের পর ইরানি প্রতিনিধিদল কাতার ছেড়েছে। তবে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কারণে তারা ফিরে যাননি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তৈরি খসড়া প্রস্তাবটি এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের জন্য প্রচার করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনার ভিত্তি হচ্ছে গত সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি সাত দফা পরিকল্পনা। এর মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের অবসান ঘটানো।
তেহরান এখন বলছে, চুক্তির আওতায় আগের পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যুক্তিসংগত ও যৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং দেশটির বৈধ প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি শুরু করা যাবে না। একইভাবে হরমুজ প্রণালিও পুনরায় খুলে দেয়া বা নিরাপদ করা সম্ভব নয়।’
শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, চুক্তি হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া সম্ভব হতে পারে। এর আগে ইরানের প্রাথমিক পরিকল্পনায় এ জন্য সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো সাম্প্রতিক একটি চিঠির পর ওয়াশিংটনের অবস্থান ও বক্তব্যের ধরনে ‘সম্পূর্ণ পরিবর্তন’ এসেছে। তিনি এটিকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত আবারও বাড়তে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই বলেছেন, তেহরান মনে করে না যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ‘একটি নতুন যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম দেবে’।
ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সব মিলিয়ে দোহায় ইরানি প্রতিনিধিদের প্রস্থান সত্ত্বেও শান্তি আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। বরং খসড়া প্রস্তাব নিয়ে মতামত বিনিময় এবং পরবর্তী বৈঠকের সম্ভাবনা নতুন করে কূটনৈতিক সমঝোতার আশা তৈরি করেছে।
