প্রতিবেশির সঙ্গে ঝগড়া করতে হলেও ন্যূনতম সম্পর্ক লাগে: শামা ওবায়েদ

প্রতিবেশির সঙ্গে ঝগড়া করতে হলেও ন্যূনতম সম্পর্ক লাগে: শামা ওবায়েদ

ফন্ট সাইজ:

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করতে হলেও ন্যূনতম একটি সম্পর্ক লাগে। বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা আদায় করতে হলে ভারতের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটাই কূটনীতি।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটিতে পানিসম্পদমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, গঙ্গা চুক্তিটা তো ছিলই। ইটস আ ম্যাটার অব আবার এটা রিনিউ হবে, যা ছিল তাই কন্টিনিউ করবে। সেটার জন্যই তো এত আলোচনা। বাংলাদেশের জন্য যেটা সঠিক, বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেটা সঠিক, সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত থাকবে। আমরা আশা করি, ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এই ঘাটতি কমাতে চায়। দুই দেশের মধ্যে অনেক ইস্যু রয়েছে। সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনার প্রতিবেশীর সঙ্গে যদি ঝগড়াও করতে হয়, ঝগড়ার জন্যও একটা ন্যূনতম সম্পর্ক লাগে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা আছে, সমস্যাগুলো আলোচনা-কথাবার্তার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। আমার ন্যায্য পাওনাটা যদি আদায় করতে হয়, তাহলে আমাকে লড়তে হবে। আর লড়তে হলে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটাই কূটনীতি।

এদিকে নিজের স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, স্পেনে তৈরি পোশাক, পাট ও রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্পেনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে আগ্রহী। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু তহবিল ঋণের পরিবর্তে অনুদান হিসেবে দেয়ার দাবি তোলা হবে বলেও জানান তিনি। সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। শিগগিরই সৌদি সরকারের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে ঢাকা।