কোনো রোগী যেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার অভাবে জটিলতার শিকার না হন

ইএনটি চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

কোনো রোগী যেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার অভাবে জটিলতার শিকার না হন

ফন্ট সাইজ:

দেশের কোনো শিশু যেন শুধু সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়ার কারণে শ্রবণ ও ভাষাগত বিকাশের সুযোগ হারিয়ে না ফেলে সেদিকে চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার অভাবে জটিলতার শিকার না হন- সেটিও দেখার বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইএনটি চিকিৎসক সমিতির জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাফল্য শুধু কতটি হাসপাতাল নির্মিত হলো, কতজন চিকিৎসক নিয়োগ পেলেন কিংবা কতটি আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হলো, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। প্রকৃত সাফল্য হলো—দেশের সাধারণ মানুষ কত সহজে, কত কম খরচে এবং কতটা মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে একজন সাধারণ নাগরিকের চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হওয়ার প্রয়োজন কমে আসে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, কান, নাক ও গলার রোগ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, কর্মক্ষমতা এবং সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বিশেষ করে শিশুদের শ্রবণশক্তির সমস্যা সময়মতো শনাক্ত না হলে তাদের ভাষা ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবার হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের কোনো শিশু যেন শুধু সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়ার কারণে শ্রবণ ও ভাষাগত বিকাশের সুযোগ হারিয়ে না ফেলে। কোনো রোগী যেন প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার অভাবে জটিলতার শিকার না হন।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার কয়েকটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার বিকেন্দ্রীকরণ। আমাদের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ইএনটি বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, অপারেশন থিয়েটার এবং প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, শিশুদের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ। নবজাতক ও শিশুদের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা, স্কুলভিত্তিক শ্রবণস্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ইএনটি বিশেষজ্ঞ, অডিওলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসা। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে তামাক ও জর্দাসহ ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমাতে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

চতুর্থত, আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সম্প্রসারণ। এন্ডোস্কোপিক সার্জারি, মাইক্রোসার্জারি, হেড অ্যান্ড নেক অনকোলজি এবং আধুনিক অডিওলজি সেবায় আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব স্বাস্থ্যসমস্যা ও রোগের ধরন বিবেচনায় গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে।

পঞ্চমত, চিকিৎসা শিক্ষার মান ও দক্ষ জনবল উন্নয়ন। আমাদের নবীন চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। সিনিয়র চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা ও নবীন চিকিৎসকদের উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে।