‘ওয়ার্ল্ড আর্ট দুবাই ২০২৬’-এ অংশ নিচ্ছেন গবেষক জি কে মুশাহিদ

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহত্তম এবং মধ্যপ্রাচ্য-দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘ওয়ার্ল্ড আর্ট দুবাই-২০২৬-এ অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের শিল্পী, উদ্ভাবক ও গবেষক আলহাজ জি কে মুশাহিদ। আন্তর্জাতিক ফাইন আর্টস অঙ্গনে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মূল্যের বিরল শিল্পকর্ম ও উদ্ভাবনী বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে বাংলাদেশকে এক নতুন অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ১৯শে নভেম্বর থেকে ২২শে নভেম্বর দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিতব্য এই বৈশ্বিক মিলনমেলায় আলহাজ জি কে মুশাহিদ অংশগ্রহণ করবেন। তার জন্য নির্ধারিত অফিসিয়াল স্ট্যান্ড নম্বর ড০৫-এ।

প্রদর্শিতব্য ৫৫টি শিল্পকর্মের মধ্যে ১০টি শিল্পকর্ম বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত। যা জাতিসংঘের এসডিজি-১৩ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো বাংলাদেশি শিল্পী বা গবেষকের শিল্পকর্মের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটিই প্রথম। প্রদর্শনীর কিউরেটর বোর্ড এসব শিল্পকর্মগুলোর মোট মূল্য নির্ধারণ করেছে ৬ মিলিয়ন দুবাই দিরহাম; যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা। তার এই যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতিমধ্যে ১২০টিরও বেশি শিল্পকর্ম বৈশ্বিক মেধা সম্পদ তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে। হবিগঞ্জের এ শিল্পী দীর্ঘ পাঁচ বছর নিবিড় গবেষণা করে বিশ্ব শিল্পকলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৈরি করেছেন খাঁটি ভেড়ার চামড়ায় চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলার টেকসই বৈজ্ঞানিক কৌশল। আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে জি কে মুশাহিদের মূল শিল্পকর্মগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিশ্ব শান্তি ও মানবিক আহ্বান। তার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশংসিত চিত্রকর্ম We Want World Peace. Our Demand: No War for the Next 100 Years (আমরা বিশ্ব শান্তি চাই, আমাদের দাবি: আগামী ১০০ বছর কোনো যুদ্ধ নয়) প্রদর্শনীতে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে স্থান পাবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পৌরসভার উমেদনগর এলাকার মৃত মকসুদ আলীর সন্তান শিল্পী ও গবেষক আলহাজ জিকে মুশাহিদ বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গবেষণা করছি, বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের কষ্টার্জিত ও সাধনার ফসল দুর্লভ শিল্পকর্মগুলো দীর্ঘদিন কীভাবে স্থায়ী রাখা যায়। এর অংশ হিসেবে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সাধনার পর চামড়ার লোমের মধ্যে শিল্পকর্ম উদ্ভাবন করেছি। যা হাজার বছর স্থায়ী থাকবে। যত দিন যাবে এসব শিল্পকর্মের উজ্জ্বলতা বাড়বে। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, লুকজেনবার, ইতালি ও অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানগণ আমার শিল্পকর্মের ব্যাপারে অভিনন্দন বার্তা প্রদান করেছেন এবং আমার শিল্পকর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। অথচ লিখিতভাবে একাধিকবার অবহিত করার পরও আমার দেশের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। যা আমাকে চরমভাবে হতাশ করেছে। অন্যদিকে, ভিসা জটিলতার কারণে আমি বিভিন্ন দেশের প্রদর্শনীতে সময়মতো অংশগ্রহণ করতে পারি না। তিনি তার সৃষ্টিকর্মগুলো বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।