সান্তাহারে অবস্থিত মিন্টু ওয়েলডিং অ্যান্ড রিপিয়ারিং ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী আনিছুর রহমান মৃধা। প্রথম শ্রেণির ওয়ার্কশপের লাইসেন্সধারী এই ব্যবসায়ী বগুড়া ও নওগাঁ অঞ্চলের শত শত চাল কলের যন্ত্রাংশ বসানোর কাজে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে আসছেন। শতভাগ বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি তার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে ২০২১ সালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার কলাবাগান বকুলতলা এলাকায় এই ওয়ার্কশপটি চালু করেন আনিছুর রহমান। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর চিত্র পাল্টে যেতে শুরু করে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওয়ার্কশপের সঙ্গে লাগোয়া বাড়ির মালিকসহ তিন ব্যক্তি ওয়ার্কশপে তালা লাগিয়ে তা বন্ধ করে দেন। তালা ঝুলিয়েই ক্ষান্ত হননি তারা, ওয়ার্কশপের সামনে ইট ও বালু রেখে চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ ঘিরে ফেলেছেন।
যে বকুল গাছের নামে স্থানটির নামকরণ করা হয়েছে বকুলতলা, সেই গাছের গোড়াতে দীর্ঘদিন ধরে ইট ফেলে রাখায় গাছটি মারা গেছে। ওদিকে, ইট বালুতে ওই জায়গা ঘিরে রাখায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে লেদ ঘরের গ্রিলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব বিষয়ে থানায় বারবার জানানোর পরও কোনো প্রতিকার মিলছে না। ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান নিজের ওয়ার্কশপটি খুলতে গেলে অভিযুক্ত ইদ্রিস, উজ্জ্বল ও হাসেম তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি এভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া গ্রামের চালকল মালিক শেখসাদী প্রায় এক যুগ ধরে আনিছুর রহমানের কাছ থেকে মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি তৈরি করিয়ে নেন। সম্প্রতি সান্তাহারে এসে তিনি দেখতে পান লেদ কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, আনিছুর রহমান একজন অত্যন্ত দক্ষ ও পরিশ্রুত লেদ কারিগর। তিনি আমাদের দেশের ক্ষুদ্র শিল্পে বড় অবদান রেখে চলেছেন। অথচ তার বৈধ জায়গা এভাবে একদল দখলদার ক্ষমতার জোরে বন্ধ করে দিয়েছে, যা দুঃখজনক। এদিকে, মিন্টু ওয়েলডিং অ্যান্ড রিপিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক আনিছুর রহমান বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে সততার সঙ্গে তিল তিল করে এই ব্যবসাটি দাঁড় করিয়েছি। শতভাগ বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করার পরও আজ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্যায় আক্রোশের শিকার হতে হচ্ছে আমাকে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার মুখের ভাত কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমার ওয়ার্কশপে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে প্রতিনিয়ত মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করা হচ্ছে। আমি থানায় অভিযোগ করেও কোনো ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন উজ্জ্বল। তিনি বলেন, আমরা তার রাস্তা বন্ধ করিনি। বরং পাশেই তার বাড়িতে যাতায়াতের জন্য আমরা রাস্তা ছেড়ে দিয়েছি।
