যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ পাস করেছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৭১৯ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয় ৪৩ জনকে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। সে হিসাবে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে ছাত্রীরা এবারো পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২১ হাজার ৫০২ জন।
ছাত্রদের পাসের হার ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ। মোট ৩ হাজার ২২৮ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৮৭০ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৫৮ জন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। এ বিভাগে ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন। মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন। জেলাভিত্তিক ফলাফলে যশোর জেলা ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে নড়াইল জেলা।
এদিকে এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কুষ্টিয়ার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ, মেহেরপুরের মোরেকা জাগরণ কলেজ, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ, খুলনার মডেল মহিলা কলেজ, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্দি কলেজ, যশোরের সবুজ পল্লী কলেজ, খুলনার ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ, মাগুরার গোপীনাথপুর এমএ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস, নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সাতক্ষীরার এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ।
অন্যদিকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে তিনটি প্রতিষ্ঠানে। এগুলো হলো- ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, খুলনার বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বোর্ডের গত চার বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ১২২ জন। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৭৪৯ জন। ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ২০ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, ২০২৫ সালে শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। তাদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। কারণগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বছরও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।
