কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৭ পরীক্ষার্থীর সবাই এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। শুধু একটি বছরের ফল বিপর্যয় নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার সংকটই যেন প্রকাশ পেয়েছে এবারের ফলাফলে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, রাজারহাটে সাতটি কলেজ ও তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি কলেজ ও দু’টি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার পাসের হার শূন্য।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার সিঙ্গারডাবরীহাট কলেজ থেকে দশজন, সিঙ্গারডাবড়ীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ছয়জন এবং পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন মোট ১৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিঙ্গারডাবড়ীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফলও কয়েক বছর ধরে হতাশাজনক।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম সরকার জানান, ২০২৫ সালে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ পাস করেনি। ২০২২ ও ২০২৩ সালেও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একজন পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, অন্যান্য বিষয়ে ভালো নম্বর পেলেও ইংরেজিতে ফেল করেছি। শিক্ষকেরা ঠিকমতো ক্লাস না নেয়ায় এমন ফল হয়েছে।
অভিভাবক মো. একরামুল হক বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি একসময় উপজেলার নামকরা কলেজ ছিল। আমার মেয়েও এখান থেকে পরীক্ষা দিয়েছে। ফল প্রকাশের পর জানতে পারি, একজনও পাস করেনি। ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখা পাঠদানের অনুমতি পায় ২০১০ সালে। কলেজের অধ্যক্ষ তুহিন পাটোয়ারী জানান, এবারের এইচএসসি ব্যাচে ২৫ জন ভর্তি থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র একজন। বাকিদের কেউ ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করছেন, আবার অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। একাদশে ১০ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ২০ শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় কলেজে আসতে চান না।
অন্যদিকে, সিঙ্গারডাবরীহাট কলেজ থেকে এবার ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই ফেল করেছেন। ২০২৪ সালেও প্রতিষ্ঠানটির কেউ পাস করেননি। স্থানীয় বাসিন্দা রমজান বলেছেন, ‘এ বছর কোনো শিক্ষার্থীকে কলেজে দেখিনি। শিক্ষকেরা আসেন, অফিসের কাজ করেন, কিন্তু ক্লাস হতে দেখিনি।’ এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, “প্রশাসন যেভাবে ব্যবস্থা নেবে, আমরা সেভাবেই পদক্ষেপ নেবো”। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় রাজারহাটের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার এমন বিপর্যয় উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়মিত পাঠদান ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি সচেতন মহলের।
