চট্টগ্রাম বোর্ডে এক বিষয়ে ফেল ২২ হাজারের বেশি

চট্টগ্রাম বোর্ডে এক বিষয়ে ফেল ২২ হাজারের বেশি

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২ হাজার ১১৪ জন মাত্র একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। পাশাপাশি তিনটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বিপরীতে ছয়টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। শনিবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার তিনটি কলেজ থেকে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেরন সান কলেজ, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কক্সবাজারের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে মেরন সান কলেজের দু’জন, সৃজনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দু’জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে, শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছে ছয়টি কলেজ।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া ২৬৭ জন শিক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ১৩৪ জনই পাস করেছেন। এ ছাড়া, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৪৪ জন, কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬০ জন, কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৭ জন, রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন এবং লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন পরীক্ষার্থী শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার বোর্ডের অধীনে ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। সে হিসাবে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৬৯ জন। তাদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজার ১১৪। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২৩ শতাংশ একটি বিষয়ে পাস করতে পারেননি।

গত বছর এ বোর্ডে এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৬৫৪। সে হিসাবে এবার সংখ্যাটি কিছুটা কমেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এ দু’টি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। অনেক কলেজে আইসিটির শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের যথাযথ পাঠদান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কোথাও খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চেষ্টায় প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ইংরেজির ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর দক্ষতা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮২টি কলেজে পাসের হার ১০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। ৮২টি কলেজে পাসের হার ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশ।

জেলাভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে খাগড়াছড়ি। সেখানে পাসের হার মাত্র ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাঙ্গামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ১৬৮ জন। একইসঙ্গে আগের বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ পয়েন্ট। সবমিলিয়ে গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড হয়েছে।