পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান। শনিবার সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে জ্বালানিবাহী তিনটি ট্রাক প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এটি কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা চতুর্থ চালান। এর আগে শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে ইউরেনিয়ামের চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে শনিবার রাতের শেষ ভাগে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী ট্রাকগুলো রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য সাতটি চালানে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম ইউনিটের ভবিষ্যৎ রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুই চালানে আসবে আরও ৪৮টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম ২৮শে অক্টোবর জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য সরবরাহ শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহও সম্পন্ন হয়েছে। জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো রাশিয়ার নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানিগুলো নির্ধারিত সংরক্ষণাগারে রাখা হচ্ছে এবং ব্যবহারের আগে বাধ্যতামূলক কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে। রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও কয়েক ধাপে জ্বালানি বাংলাদেশে আসবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দু’টি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দু’টি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
