ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম শেষের দিকে হলেও প্রকোপ থামছে না। সারা দেশেই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৩৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ঢাকার বাইরে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে অক্টোবর মাসেই সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৭৩ জনের প্রাণ ঝরেছে। সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ১৪৮ জন। এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪১৮ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরেই ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ২৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নভেম্বরেও প্রকোপ থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় চট্টগ্রামের আট বছরের শিশু ঐশী দাস। ঐশী দাসের মৃত্যু হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। সে কাট্টলী এলাকার একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ডেঙ্গুতে ঐশীর মৃত্যুতে তার বাবা, মা ও বোন সবাই ভেঙে পড়েছেন। শুধু ঐশী নন, এভাবেই এবছর অনেক তাজা প্রাণ ঝরেছে ক্ষুদ্র এই প্রাণীটির আক্রান্তে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মে মাসে মারা যান একজন। জুনে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ জনে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। আর অক্টোবরের ৩০ দিনে মারা গেছেন ১৭৩ জন।
মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের মোট মৃত্যুর বড় অংশ ঘটেছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে। এই দুই মাসে মারা গেছেন ৩২১ জন, যা চলতি বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৭ শতাংশের বেশি।
এ প্রসঙ্গে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধন করতে হবে। প্রশাসনকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কেউ কেউ এক থেকে দুইদিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে শকের পর্যায়ে চলে যাচ্ছেন। এ কারণে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং ক্যান্সার ও যকৃতের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জ্বর হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। ডা. আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ জরুরি। তবে বমি, খাবার গ্রহণে অসুবিধা কিংবা পাতলা পায়খানা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বর হলে নিজের ইচ্ছামতো ফার্মেসি থেকে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে।
