সিইসি ও ইসি সচিব অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে

সিইসি ও ইসি সচিব অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন

ফন্ট সাইজ:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার ১১দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

এসময় গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ও প্রধান যদি অনিয়মকে অস্বীকার করেন, তাহলে বুঝতে হবে যারা অনিয়ম করেছেন, তাদের সঙ্গে সিইসি ও ইসি সচিবের আঁতাত রয়েছে। তারা সাংবিধানিক পদে বসে এই পদের প্রতি সুবিচার করেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেছেন। ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাড়াতাড়ি কলম দিয়ে কাগজে পরিচয় লিখে পকেটে টানায়। তারা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না।
গণভোটের রায় না মানলে সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকারকে গণভোটের রায় মানতে হবে। এটি না মানলে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের বিকল্প থাকবে না। সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে। সরকারই দেশকে সেদিকে ঠেলে দিচ্ছে। জামায়াত সংসদের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান চায়। গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ৯ই নভেম্বর সংসদের অধিবেশন রয়েছে। সরকার জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান দেখাতে চাইলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এ জন্য বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই। জনগণ গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে।

দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং এবং রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং প্রশাসন, সচিবালয়, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনসহ সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানান তিনি। দেশে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, ডিলারশিপ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির ধরন পরিবর্তন হয়নি, শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে।