চট্টগ্রামে হঠাৎ বিআরটিএ’র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো পিডিবি, ভোগান্তিতে গ্রাহক

চট্টগ্রামে হঠাৎ বিআরটিএ’র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলো পিডিবি, ভোগান্তিতে গ্রাহক

ফন্ট সাইজ:

 চট্টগ্রামের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্যাহত হয়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। যানবাহনের চাপে একপর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়ে কার্যালয় প্রাঙ্গণ। এর প্রভাব পড়ে পাশের হাটহাজারী সড়কেও, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বৃহস্পতিবার নগরের হাটহাজারী সড়কের নতুনপাড়ায় বিআরটিএর বিভাগীয়, জেলা ও চট্ট মেট্রো-২ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ষোলশহর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ কার্যালয়টির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

ওইদিন ছিল জরিমানা ছাড়া মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের শেষ দিন। এ কারণে সকাল থেকেই কার্যালয়ে ভিড় করেন বিভিন্ন এলাকার যানবাহনের মালিক ও চালকরা। তাদের অনেকে বকেয়া কর ও ফি পরিশোধ করে ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করতে এসেছিলেন। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন সেবাগ্রহীতারা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাজ শেষ করতে পারেননি। এ নিয়ে কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডাও হয়। যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় কার্যালয় প্রাঙ্গণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

বিআরটিএ’র দাবি, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে পিডিবি’র কর্মীরা জানান, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় এবং একাধিকবার তাগাদা দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিআরটিএ চট্ট মেট্রো-২-এর উপ-পরিচালক মো. সানাউল হক মানবজমিনকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রমে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়। তিনি বলেন, পিডিবি কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কথা জানিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিলটি মূলত চলতি মাসের, যার পরিমাণ ৮৩ হাজার ২০০ টাকার কিছু বেশি। একে বকেয়া বলা যায় না। সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম চলাকালে কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময়ও তাদের কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সানাউল হক আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা পরে মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদ না করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলো ব্যক্তিগত নয়, প্রকল্পের। এসব গাড়ির কাগজপত্র পিডিবি’র আইবাস (রইঅঝ++) কোড ব্যবহার করে হালনাগাদ করতে জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে কার্যকর কোনো সরকারি নির্দেশনা বা অফিস আদেশও নেই।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কিছু যানবাহন বিআরটিএর সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি চলছে। এ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতার সঙ্গে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ তাদেরই এর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অন্যদিকে পিডিবি ষোলশহর বিক্রয় ও বিতরণ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানা উল্লাহকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।