খুলনা অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ আজ

ফন্ট সাইজ:

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে আজ লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। চট্টগ্রাম ও রংপুরের পর এবার খুলনা বিভাগে লংমার্চ করতে যাচ্ছেন তারা। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচিতে দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেয়ার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

আজ সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ৮টায় প্রায় ছয় শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে যাত্রা শুরু হবে। পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হয়ে বহরটি দেড় হাজারে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগের দু’টি লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচি সবচেয়ে দীর্ঘ। এর মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার সাত দফা দাবির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

যেসব পথে যাবে লংমার্চ: আয়োজকদের দেয়া কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট ও রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনায় পৌঁছাবে লংমার্চের বহর। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে অংশগ্রহণকারীরা। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর এবং দুপুর ২টায় ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা রয়েছে। এ ছাড়া বিকাল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় এবং বিকাল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ প্রমুখ।