জনগণের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে যে নৈরাজ্য চলমান রয়েছে, খুন, গুম চলছে, এসব কিছুর ব্যর্থতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যর্থতার দায়ে জ্বালানিমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপি আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বাংলাদেশের জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
এই ব্যর্থতার দায় সবচেয়ে বেশি যার ওপর বর্তায় তিনি হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাদ দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষায় যে গণভোট হয়েছিল, সেই গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ভোট দিয়েছিলেন। সেই গণভোটকে বাদ দিয়ে সংবিধান কাটাছেঁড়ার যে দায়িত্ব নিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ, আমরা তার পদত্যাগের দাবিতে আজকে শাহবাগে এসেছি। সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যিনি জ্বালানিমন্ত্রী রয়েছেন, তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। কারণ উনারা দুজনই তাদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের এই মিছিল বড় হবে। সারা বাংলাদেশের সর্বত্রই আমরা মিছিল করব। সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, যে একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, অবিলম্বে সেই কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করতে হবে। কারণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ করাটাই ছিল জুলাই সনদ এবং এই গণভোটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর প্রথম দিন থেকেই ভঙ্গ করে চলেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, হাজারো মানুষের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানে এক স্বৈরাচারকে বিদায় করা হয়েছে। কিন্তু এখন দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার, দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করা হবে। মানুষের বাসায় গ্যাস নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস, রাহাজানি, দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ সবার জীবন আজ নাজেহাল। বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। সারা দেশের সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হচ্ছে।
সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি প্রথম দিন থেকেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আসছে। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকারের কাছে জনাব তারেক রহমানের দেশ পরিচালনা করার কোনো ধরনের প্ল্যান-পরিকল্পনা নেই। তাদের প্ল্যান-পরিকল্পনা হয়েছে কীভাবে দেশ থেকে দুর্নীতি করবে, কীভাবে লুটপাট করবে, কীভাবে চাঁদাবাজি করবে, কীভাবে সন্ত্রাস কায়েম করবে, কীভাবে দখলদারত্ব করবে। সেই পরিকল্পনা নিয়ে জনাব তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে শুনছি, পতিত স্বৈরাচার নাকি দেশে আসবে। আমরা জানি, সেই স্বৈরাচারকে এই নতুন স্বৈরাচার কোনোভাবেই মোকাবিলা করতে পারবে না। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ পারেনি, বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে পারেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি, জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে? ফলে বাংলাদেশের তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুজিববাদী ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এবং এই দুর্নীতিবাজ মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবারও রাস্তায় নামতে হবে।
ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার নানা ধরনের চক্রান্ত চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এই সরকার আসার পরে ১০ জনেরও অধিক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না বর্তমান সরকার। ভারতের সঙ্গে করিডোর ও গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আবারও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে করিডোর তৈরি করার চেষ্টা করছে। অবৈধ করিডোর ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারেক রহমান। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ ধরনের কোনো অবৈধ করিডোর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। ডিসেম্বরে যদি গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে নতুন করে তৈরি করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও নামবে। এবার আমরা গঙ্গা চুক্তিতে কোনোভাবেই এক বিন্দু পরিমাণ আমাদের ন্যায্য হিস্যায় ছাড় দেব না।
আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরশেনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে তিনি বলেন, আপনারা অনেক নৈরাজ্যের মধ্যে রয়েছেন, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের মধ্যে রয়েছেন। আপনাদের এই জুলুমের অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি তার দুই কান্ডারিকে আপনাদের সামনে সমর্পণ করছে। আমাদের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং আসিফ মাহমুদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগর উত্তরে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ তারা জয়লাভ করে ঢাকা মহানগরবাসীর সব দুঃখ-দুর্দশা দূর করবেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদ্ল্লুাহ আল আমিন, সারোয়ার তুষার ও মনিরা শারমিনসহ প্রমুখ।
