গণকবর খোঁড়ার মহড়া মার্কিন বাহিনীর

বড় যুদ্ধের শঙ্কা

গণকবর খোঁড়ার মহড়া মার্কিন বাহিনীর

ফন্ট সাইজ:

যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা মাথায় রেখে নিজেদের সেনাদের জন্য গণকবর খোঁড়ার প্রশিক্ষণ শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মহড়া চালাচ্ছে তারা। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে কীভাবে সামরিক বাহিনী তা সামাল দেবে, সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ নেয়া হচ্ছে।

নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত থার্ড কর্পস সাসটেইনমেন্ট কমান্ড ও ২০তম ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের সেনারা এই মহড়ায় অংশ নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সামরিক ধর্মীয় সহায়তা বিভাগের সদস্য ও সামরিক চ্যাপলিনরা।

খননযন্ত্র ও এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত অস্থায়ী গণকবর তৈরি করা যায়, তা পরীক্ষা করেন তারা। একই সঙ্গে মরদেহগুলো অক্ষত রেখে পরবর্তী সময়ে শনাক্তকরণ ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়ার উপযোগী করে সংরক্ষণের পদ্ধতিও অনুশীলন করা হয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে এত বড় পরিসরে এ ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়নি। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হন। যুদ্ধের পরও কোরীয় উপদ্বীপ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বিভক্ত রয়েছে।

গত ২৫ বছরে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে মার্কিন সেনারা নিহত হলে বড় আকারের অস্থায়ী গণকবর তৈরির পরিবর্তে দ্রুত তাদের মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তবে কোনো যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলে সামরিক বাহিনীর মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা দলগুলোর পক্ষে প্রত্যেকের মরদেহ আলাদাভাবে দাফন করা কিংবা ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া এমন পরিস্থিতিতেও শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কিংবা প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।

মার্কিন সামরিক বিধি অনুযায়ী, নিহত সেনা ও সামরিক সদস্যদের মরদেহের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ে শনাক্ত করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সব পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের।

সেনাবাহিনীর প্রচলিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি অস্থায়ী গণকবরের জন্য পাঁচটি পরিখা বা ট্রেঞ্চ তৈরি করা হয়। এতে মোট ১০০ জনের মরদেহ দাফন করা সম্ভব। নর্থ ক্যারোলিনার মহড়ায় বুলডোজার ও অন্যান্য সামরিক যান ব্যবহার করে প্রতিটি গণকবরের জায়গা প্রস্তুত করতে গড়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লেগেছে।

সেনাবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, আটটি বুলডোজার ও চারটি সামরিক এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ সেনার মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা সম্ভব।
থার্ড কর্পস সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস ডেলবার্ট রুয়েডে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উচ্চমাত্রার সংঘাতের পরিস্থিতিতে নিহত সেনাদের প্রতি কীভাবে সম্মান দেখানো, মর্যাদা রক্ষা এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের মরদেহের ব্যবস্থাপনা করা যায়, এই মহড়ার মাধ্যমে তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমাদের হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এখানে বৈজ্ঞানিক ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত পদ্ধতি অনুসরণ করছি, যাতে নিহত সেনাদের মরদেহের ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা যায়।’

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ফোর্ট ব্র্যাগের এই মহড়ার মধ্য দিয়ে ২০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো সামরিক চ্যাপলিন এবং ধর্মীয় বিষয়ক দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে অস্থায়ী গণকবর তৈরির কাজে কীভাবে সহায়তা করতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেলেন।