খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: ১১ দলীয় ঐক্য

ফন্ট সাইজ:

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্য। তারা বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঘোষিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচি সামনে রেখে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। আমরা আন্দোলন করছি, পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে। খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্দুল খালেক বলেন, নগরীর মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কখন, কোথায় বোমা বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটছে- তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। সরকারের বিভিন্ন ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সমালোচনা করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে কেন লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হচ্ছে, সেটিও সরকারের জন্য ভাবনার বিষয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দায়িত্ব সরকারের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।