এলপিজি’র দাম বাড়ানোর শুনানিতে ক্যাবের বিরোধিতা, আগামী সপ্তাহে আসছে সুপারিশ

ফন্ট সাইজ:

বাজারে এলপিজি সংকট এবং ঊর্ধ্বমুখী আচরণের মধ্যেই পণ্যটির নতুন দাম নির্ধারণে গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গণশুনানিতে তোপের মুখে পড়ে এলপিজি আমদানিকারক ও বিইআরসি। সরকার ঘোষিত দামে না পাওয়া এবং রেগুলেটরি কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতারাও আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলেন। ভোক্তা আন্দোলনের সংগঠন ক্যাব দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে শুনানিতে। গতকাল বিয়াম অডিটোরিয়ামে বিইআরসি’র গণশুনানিকালে এই বিরোধিতা আসে। গণশুনানির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। শুনানিতে তার সঙ্গে ছিলেন সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহিদ সারওয়ার। এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতারা প্রায় ক্ষেত্রেই কমিশন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে।

অন্যদিকে বিইআরসি টেকনিক্যাল কমিটি ১২ কেজিতে আমদানিকারকের কমিশন ২০০ থেকে বাড়িয়ে ২৮০ টাকা, ডিলারদের ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার পক্ষে মতামত দেন। ১২ কেজিতে আমদানিকারকের কমিশন ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা, সবচেয়ে কম মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে, পরিবেশকরা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ দিয়েছে। টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট কার্যকর হলে ১২ কেজি এলপিজি’র সরকারি দর ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হবে। শুনানি পরবর্তী কোনো বিষয়ে বক্তব্য থাকলে আগামী রোববারের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে। ক্যাব’র উপদেষ্টা খলিলুর রহমান শুনানিতে বলেন, এলপিজি’র দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা বিইআরসি’র দায়িত্ব। সেটি না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না। দাম না বাড়ানো এবং বিইআরসি ঘোষিত দরে বেচাকেনা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

পরিবেশকদের সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের কোরেশি বলেন, বোতলজাতকৃত এলপিজি আমাদের ঘরে পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্তু যখনই সংকট শুরু হয়, তারা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমাদের বাড়তি খরচ যোগ হলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। পরিবহন খরচ তাদের হিসাবে যোগ করার প্রস্তাব করেন।
জবাবে টেকনিক্যাল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন দূরত্বে পৌঁছে দিতে হয়, সে কারণে এটি আমদানিকারকদের প্রান্তে রাখা হয়েছে। তারা কোন ক্ষেত্রে বেশি খরচ করবে আবার কাছের পরিবেশককে অল্প খরচে সরবরাহ করবে।
মেঘনা ফ্রেস এলপিজি’র সিএফও আবু সাঈদ রাজা বলেন, বাংলাদেশের এলপিজি’র বাজার দ্রুত বাড়ছে। এই খাতে বর্তমানে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এই বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বড় জাহাজে আসে কুতুবদিয়া, সেখান থেকে লাইটারেজ ও সড়ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয়া হয়। সেই খরচ যোগ করা হয়নি বিগত ২০২১ সালের গণশুনানিতে।

তিনি ব্যাংক ঋণ সুদ ১৫ শতাংশ, ইকুইটির ওপর ৩০ শতাংশ মুনাফার প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি পরিবেশকদের কমিশন ১২০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এটি করা হলে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। এলপিজি’র ব্যবসা করতে ৩১টি লাইসেন্স নিতে হয়। এতে ঘাটে ঘাটে পয়সা দিতে হয়, শুধু ফি দিতে হয় ৩ কোটি টাকার মতো। ওরিয়ন, বেক্সিমকো, ইউনিগ্যাসসহ কয়েকটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন ওরিয়ন এলপিজি’র কর্মকর্তা অনিক কুমার সেন। বলেন, নানা কারণে বেশ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বাজারে থাকা সিলিন্ডারের মধ্যে ওই কোম্পানিগুলোর রয়েছে দেড় কোটির মতো। এখানেই বড় সংকট তৈরি হয়েছে। যেসব কোম্পানি আমদানি করছে তাদের মাধ্যমে আমাদের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় তাহলে বাজারে আর সংকট থাকবে না।