শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার চীন মৈত্রী সিগন্যাল অবরোধ করেন তারা। এতে প্রায় ২০ মিনিট সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গেট দিয়ে বের হয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ ঘুরে চীন মৈত্রী সিগন্যালে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। পরে মিছিল নিয়ে বিজয় সরণি-মিরপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরাফাত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আমরা আমাদের গবেষণার মাঠ ফিরে পেতে চাই।

সবাই যদি কংক্রিটের ভবন নির্মাণে ব্যস্ত থাকে, তাহলে সবুজায়ন করবে কে? আমরা কৃষি গবেষণার মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। তাই গবেষণার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের অনুমোদন পুনর্বিবেচনা করে পূর্বাচল বা উপযুক্ত অন্য কোনো স্থানে তা স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। শিক্ষার্থী মুনতাসিব রাহাত মানবজমিনকে বলেন, আমাদের একটাই দাবি- সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ শেকৃবিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমাদের গবেষণা ও ভবিষ্যতের স্বার্থে আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা গত ২৭শে অক্টোবর আমরা পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করি। মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিনদিনের আল্টিমেটাম দিই এবং মেলার সুনির্দিষ্ট অনুমতি না থাকায় তা বন্ধ রাখতে বলা হয়। ২৮শে অক্টোবর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা মাঠে গিয়ে মেলার নির্মাণাধীন গেট ও কয়েকটি স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেই। ২৯শে অক্টোবর আমরা মিছিল নিয়ে আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় যাই এবং সড়ক অবরোধ করি। পরে বিজয় সরণি-মিরপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করি।

উল্লেখ্য, শেকৃবির পুরনো গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার এবং সেখানে বাণিজ্যমেলার আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। গত ১৫ই অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচিও পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬শে অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। পরদিন ২৭শে অক্টোবর সচিবালয় স্থানান্তরের লক্ষ্যে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার (সয়েল টেস্ট) কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও দু’টি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। ২৮শে অক্টোবর পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ও যুবমেলার জন্য নির্মিত গেট ও স্টল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেলার স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। মাঠ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে আমরা ঐকমত্য পোষণ করছি। তারা এ আন্দোলন করতে গিয়ে কোনো অহিংস বা ভাঙচুর না করে- এটাই প্রত্যাশা।