নেত্রকোণার মদনে মাদ্রাসা শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছরের শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা ও পরে কন্যা শিশুর জন্ম দেয়। আলোচিত সেই ঘটনায় করা মামলার শুনানি শেষে আগামী ১১ই নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত। বুধবার নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তি-তর্কের শুনানি শেষে রায়ের এ দিন নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির একপর্যায়ে মামলার আসামি আমান উল্লাহ সাগর বিচারকের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে সাগর জানান, তার ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে জীবনের সব সম্পদ দিয়ে দেয়ার আকুতি জানান তিনি। স্ত্রী-সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে তাদের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ কঠিন হয়ে পড়বে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের হাতে থাকা সাক্ষ্য, নথিপত্র ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ সময় আদালত ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসি ক্যামেরা ছিল কিনা, সেটিও জানতে চান।
শুনানির একপর্যায়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপসের প্রসঙ্গ তুললে বিচারক তা নাকচ করে দেন। বিচারক জানান, আসামি পক্ষ কখনো আপসের বিষয়ে কথা বলেননি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড় বাড়ি গ্রামের মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিক্ষার্থী ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার পরিবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় ২৩শে এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৬ই মে র্যাব অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। গত ২রা জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়। আদালতের নির্দেশে ২৮শে জুলাই সিআইডি’র একটি দল নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। ডিএনএ পরীক্ষায় আসামি সাগরই শিশুটির পিতা বলে নিশ্চিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দায়ের করে।
