নোয়াখালীতে বাড়ি দখলের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মা’কে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্লাহ। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজীবাড়ীর বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছিলেন। ২০২৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী তার বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন।

পরে তিনি আরও দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেয়ায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ই মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুন নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি আবারো বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

তবে গত ১লা সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তার স্ত্রী, ছেলেরা এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারো বাড়িটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাকে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মা’কে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের। কাজী আজিজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।