সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে যেন মেরে ফেলা না হয়

নাহিদকে নিয়ে বিশপ

সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে যেন মেরে ফেলা না হয়

ফন্ট সাইজ:

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নেই নাহিদ রানা। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ায় চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে। গতকাল থেকে সেখানে তার বোলিং শুরু করার কথা। কত দিন পর তিনি ফিরতে পারবেন, তা বোঝা যাবে তার বোলিংয়ে ফেরার পরই। একাদশে না থাকলেও ধারাভাষ্যকক্ষে ইয়ান বিশপের মুখে এসেছে নাহিদের নাম। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকেও জানান রানাকে নিয়ে তার ভাবনার কথা। বিশপ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাবনাময় সুপারস্টারদের একজন। বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণ ফাস্ট বোলার উঠে আসছে। নাহিদ তাদের বেশির ভাগের মতোই দ্রুতগতির, এমনকি অনেকের চেয়েও বেশি গতিতে বল করতে পারে। আর ওর বয়স তো বিশের কোঠার শুরুর দিকে, কত হবে, ২৩? না, নিশ্চিতভাবেই ২২-এর শুরুর দিকে।’ বিশপের মতে নাহিদ বাংলাদেশকে উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন।

বিশপ মনে করেন গতি কেনা যায় না। দুনিয়ার প্রতিটি দল নাহিদের মতো বোলার খুঁজছে। তাই তাকে নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশপ। বিশপের আশা নাহিদ মাঠে ফিরে সামর্থ্য দেখাবেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত সিরিজে নাহিদকে না পেয়ে হতাশা জানিয়েছিলেন বিশপ। এবারও তাকে না দেখে আক্ষেপ করেছেন। ১৪৫/১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করেন নাহিদ। তাকে নজরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন বিশপ। এ প্রসঙ্গে বিশপ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নাহিদের সেই সামর্থ্য আছে, যা দিয়ে সে বাংলাদেশকে নতুন একটি অধ্যায়ে, নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। কারণ, চাইলেই গতি কিনে নেয়া যায় না। বিশ্বের প্রতিটি দলই নাহিদ রানার মতো একজন বোলার খুঁজছে। তাই ওকে সুস্থ রাখুন।’ বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে নাহিদকে ছাড়াই জিতেছে। ওই টেস্টে পাঁচটি উইকেট পেয়েছেন হাসান মাহমুদ। ম্যাকাইতে পরের টেস্টে সাতজন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান পেসার শরীফুল ইসলাম। বাংলাদেশের পেসারদের উন্নতিতে বিশপ আনন্দ পেয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হাসানের শুরুর ওভারগুলোতে তার মনে পড়ে গিয়েছিল পেস বোলিংয়ের স্বর্ণযুগের কথা।

দেশের বাইরে টেস্ট জিততে পেসারদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘দেশের বাইরে টেস্ট জিততে হলে শুধু স্পিনার আর একজন পেসারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এ ক্ষেত্রে ভালো পেসার খুঁজে বের করার পথে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বিশপের চাওয়া নাহিদের দেখভাল। ঈশপের গল্প স্মরণ করিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানাকেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তায় সেভাবে আগলে রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে যেন তার শরীর পেস বোলিংয়ের এই কঠিন চাপ সহ্য করার মতো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সংক্ষেপে এটাই বলতে চাই, তাকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করা যাবে না। তাৎক্ষণিক সাফল্যের লোভে পড়ে সোনার ডিম পাড়া হাঁসটিকে যেন মেরে ফেলা না হয়।’ বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে নিয়েও কথা বলেছেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘আমি জানি বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে ফিল সিমন্সের মতো একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কোচ আছেন।

সে আমার বড় ভাইয়ের মতো, অত্যন্ত চমৎকার একজন কোচ। তিনি বিষয়টি খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করবেন, কারণ পেস বোলিং খুবই ধকলের একটি কাজ। ইনজুরির প্রবণতা কারও কারও শরীরে অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশিই থাকে, নিজের ক্যারিয়ারের একের পর এক স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের অভিজ্ঞতা থেকে আমি তা ভালোভাবেই জানি।’ এছাড়া মেডিকেল টিমের ভূমিকা নিয়ে বিশপ বলেছেন, ‘দলের ফিটনেস ও কন্ডিশনিং ট্রেনারদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা যথাযথ স্ট্রেন্থ ওয়ার্কের মাধ্যমে নাহিদ রানার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে দিতে পারেন। মেডিকেল টিমের ভূমিকাও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’