স্কোর বোর্ডে তখন ২১৩ রান মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ৫৯ রানে হারায় বাকি ৭ উইকেট। তাতেই গতকাল মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ দল গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। আগের দিন খেলা বন্ধ হওয়ার সময় সাদমান ইসলাম ৯৯ রানে ক্রিজে ছিলেন। দিনের দ্বিতীয় বলে ডাবলস নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম শতরানের ইনিংস। আগের দু’টি তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। জশুয়া বিশপের বলে ১০৫ রানে সাদমান আউট হন। এরপর দলের ইনিংসে ধস নামে। ৫৯ রানের মধ্যে দল শেষ সাত উইকেট হারায়। তাওহিদ হৃদয় গতকাল কোনো রান না করেই আউট হন। জশুয়া বিশপ তাকে আউট করেন। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ কিছু সময় খেলেন। জোমেল ওয়ারিক্যান মিরাজকে ১৫ রানে আউট করে সাজঘরের পথ দেখান।
শামার জোসেফ নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে আউট করেন। ওয়ারিক্যান তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে আউট করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। আঙুলে চোট নিয়ে লিটন ৩৪ রানে ক্রিজে ছিলেন। দলের এই ব্যাটিং ধস নিয়ে সাদমান বলেন, ‘সকালে দ্রুত আমাদের উইকেট পড়ে যায়। লিটন ও আমি যদি জুটিটা আরেকটু বড় করতে পারতাম, চিত্রটা অন্যরকম হতো। ওখানেই আমাদের একটা ভুল হয়ে গেছে। সকালে আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। আমি আউট না হয়ে ইনিংস বড় করতে পারলে এমন ধস নামতো না।’ বাংলাদেশের ব্যাটারদের উইকেট যে খুব ভালো বল করে ক্যারিবীয়ানরা তুলে নিয়েছেন তা নয়। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু আউট ছিল তাওহীদ হৃদয়েরটি। পিচ ও হৃদয়ের শট নিয়ে সাদমান বলেন, ‘উইকেটের কোনো দোষ ছিল না। হৃদয় যে বলে আউট হয়েছে, সেটি হাফ ভলি এবং মারার মতোই বল ছিল। হৃদয় এসব শট খেলেই রান করে। হয়তো বোলাররা ভালো করেছে, আর আমাদেরও কিছু ভুল ছিল। লিটনের সঙ্গে আমার জুটিটা বড় হলে পরিস্থিতি এমন হতো না।
উইকেট নিয়ে শুরু থেকে আমি বেশি ভাবিনি। বল আসবে আর খেলবো- এটাই পরিকল্পনা ছিল। মিরপুরের উইকেটে সকালে বা দিনের শেষে ব্যাটারদের কিছুটা চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয়। এটা মেনেই ব্যাটিং করেছি।’ লিটনের চোট নিয়ে সাদমান বলেন, ‘লিটনের অবস্থা আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আশা করি, সে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে পারবে।’ অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম তিন ওভারে পাঁচটি বাউন্ডারি মারে। পাঁচ রানে জন ক্যাম্পবেলের ক্যাচ ছাড়েন নাঈম। তবে হাসান ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করে লাগাম টেনে ধরেন । লিটন চোট পাওয়ায় জাকের আলী কিপিং করেন ম্যাচে। চা বিরতিতে এক উইকেটে স্কোর বোর্ডে ৮৯ রান তোলে ক্যারিবীয়রা। তবে চা বিরতির আগে বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়। বিরতির পর মিরাজের বলে ৫৪ রানে ক্যাম্পবেল আউট হন। নাজমুল হোসেন শান্ত তার ক্যাচ ধরেন। তাইজুল এক ওভারে কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুকে আউট করেন। ৭ রানের মধ্যে সফরকারী দলটি তিন উইকেট হারায়। তেজনারাইন চান্দারপল ও জাস্টিন গ্রেভস দিনের শেষ পর্যন্ত খেলেন। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চার উইকেটে ১৩৭ রান তোলে। স্পিনারদের বোলিং নিয়ে বলেন, ‘ব্রেক থাকলে নতুন করে সেট হতে ব্যাটারদের কিছুটা চাপে পড়তে হয়। তবে আমাদের বোলাররা ব্রেকের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের স্পিনাররা অনেক অভিজ্ঞ। মিরাজের বেলায় বলটা নতুন ছিল বলে হয়তো অতটা ঘুরেছে। তবে আমি বলবো, মিরাজ ও তাইজুল ভাই প্রতিপক্ষের স্পিনারদের চেয়ে অনেক ভালো জায়গায় বল করছে।’ দলের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘যত বেশি লিড নেয়া যায়, ততই ভালো। সকালে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ওদের খুব তাড়াতাড়ি অলআউট করার চেষ্টা থাকবে।
৯৯ রানে অপরাজিত থেকে আগের দিন শেষ করার মানসিকতা নিয়ে দলের এই বাঁহাতি ওপেনার ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আশেপাশের মানুষ ৯৯ নিয়ে কথা বললেও আমার মাথায় এসব ছিল না।’ অন্যদিকে নিজের ইনিংস বড় করতে না পারা নিয়ে সাদমান বলেন, ‘টপ অর্ডার ব্যাটারদের স্কোর ১৫০ থেকে ২০০ রান পর্যন্ত টানা উচিত। তাহলে দলীয় রান ৪৫০ থেকে ৫০০ হতে পারে। এখানে আমাদের ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে ইনিংস আরও বড় করার চেষ্টা থাকবে। ওপেনার হিসেবে নতুন বল ভালোভাবে সামলাতে পারলে পরের ব্যাটারদের কাজ সহজ হয়। গত কিছুদিন আমি নিজের ইনিংস বড় করতে পারছিলাম না বলে ফিটনেস ও ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি।’ পারফরম্যান্স নিয়ে হওয়া সমালোচনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা তো আসবেই। আমি এসব নিয়ে খুব কম ভাবি। আমার কাজ হলো খেলা, অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম করা। আমি শুধু এই প্রক্রিয়াতেই থাকার চেষ্টা করি।’
