আজারবাইজানের বাকুতে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ছন্দ ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন পাভেল। একটি করে গোল করেন মোহাম্মদ বায়েজিদ ও শিবাক কুমার মালি। আটজনের এই টুর্নামেন্টে (এইট-এ-সাইড) প্রতি অর্ধে ২০ মিনিট করে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ই-টায়ারের কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। নবম মিনিটে মোহাম্মদ বায়েজিদের গোলে এগিয়ে যায় দল। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাভেল হাসান। ৩৪ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন শিবাক কুমার মালি। দুই মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় ও দলের শেষ গোলটি করেন পাভেল। ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।
এটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অষ্টম ম্যাচে চতুর্থ জয়। বাছাইপর্বে ‘জি’ গ্রুপে পঞ্চম হয় বাংলাদেশ। ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করা বাংলাদেশ পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারে। এরপর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এরপর বুরুন্ডির বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয়ে ফেরে দল। শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের সঙ্গে নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ। শেষ ষোলোতে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পান পাভেলরা। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে পঞ্চম হওয়া ৩২ দল নিয়ে চলছে ‘ই’ টায়ারের নকআউট পর্ব। নকআউটে দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশ টানা তিন ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো। বাংলাদেশ ‘ই’ টায়ারে চ্যাম্পিয়ন হলে ১২৯তম দল হবে। ফিফার আয়োজনে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ১৮৯টি দেশ। মোট ৩২টি গ্রুপে ভাগ করে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলা হয়। যেখানে প্রতিটি দল গ্রুপ পর্বে ৪ থেকে ৫টি করে ম্যাচ খেলেছে।
এরপর অবস্থানের ভিত্তিতে দলগুলোকে ৬টি পারফরম্যান্স টায়ারে ভাগ করা হয়েছে। ৩২টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা লড়ছে মূল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য (১ম থেকে ৩২তম স্থান)। গ্রুপ রানার্সআপ দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে টায়ার ‘বি’তে (৩৩তম থেকে ৬৪তম স্থান)। গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলো খেলছে টায়ার ‘সি’তে (৬৫তম থেকে ৯৬তম স্থান)। চতুর্থ হওয়া দলগুলোর স্তর টায়ার ‘ডি’ (৯৭তম থেকে ১২৮তম স্থান)। বাংলাদেশসহ গ্রুপে পঞ্চম হওয়া দলগুলো লড়ছে টায়ার ‘ই’তে (১২৯তম থেকে ১৬০তম স্থান)। গ্রুপে ষষ্ঠ হওয়া দলগুলো খেলছে টায়ার এফে (১৬১তম থেকে ১৮৯তম স্থান)। নকআউট ম্যাচে কোনো দল হেরে গেলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় না। তারা একই স্তরের অন্য পরাজিত দলের মুখোমুখি হয়। ফলে প্রতিটি দল টুর্নামেন্টের শেষ দিন পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়।
