মোহাম্মদ আশরাফুল আবেদিন নওশাদ। একজন প্রতারক এবং হ্যাকার। যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে মামলা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এফবিআইয়ের কাছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে আত্মগোপনে থেকে তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র মতে, আশরাফুল দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল নম্বর হ্যাক করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ আছে, দেশে এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন সাইবার ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত আশরাফুল নিজেকে একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এরপর সুযোগ বুঝে কৌশলে ব্যাংক এবং মোবাইলের দরকারি তথ্য চুরি করে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাৎ করেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্যামাইকাতে তার এক বন্ধু দীপন দাসের ৭১৮ ৪৯৯ ৩৭৪২ নম্বরটি হ্যাক করেন।
এরপর দীপনের নম্বর ব্যবহার করে দীপনের অন্য বন্ধুদের সঙ্গে নানারকম ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী আর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নওশাদ সেই বন্ধুর এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী পুলিশের শরণাপন্ন হন। তার বিরুদ্ধে এফবিআইয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এভাবে বিভিন্নজনের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হন। সূত্রমতে যুক্তরাষ্ট্রের জেপি মরগান চেজ ব্যাংক এবং টিডি ব্যাংকে তার নামে প্রচুর অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। আশরাফুল দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে মামলা হওয়ার পর তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। সূত্র মতে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশেই কোনো অজ্ঞাত স্থান থেকে তার অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
নওশাদের বর্তমান অবস্থান জানতে তার স্ত্রী নিনার নামে কেনা রোজ কটেজ, বাড়ি-১২৭, রোড-৪, ব্লক-এ, বনানী ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সেখানে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের কাউকেই পাওয়া যায়নি। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টটিতে একজন ভাড়াটিয়া বসবাস করছেন। ভাড়াটিয়ার কাছে পাওয়া নিনা ও নওশাদের দুটো মোবাইল ফোন নম্বর পাওয়া যায়। কিন্তু নম্বর দুটোই বন্ধ পাওয়া যায়।
