ফল আমদানিতে শুল্ককর কমানোর সুপারিশ

ফল আমদানিতে শুল্ককর কমানোর সুপারিশ

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশে আমদানি করা বিদেশি ফলের বিদ্যমান উচ্চ শুল্ককর কাঠামো প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। কমিশন বলছে, বিলাসদ্রব্যের মতো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় সাধারণ মানুষের পুষ্টি ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ উপায়ে আমদানি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তাজা ফলের শুল্ককর কাঠামো পর্যালোচনা সংক্রান্ত এই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এটি শিগগিরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকেই তাজা ফল- আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও আনার-আমদানিতে ধারাবাহিকভাবে শুল্ককর বাড়ানো হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মোট শুল্ককর হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, তা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ করা হয়েছে। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ টন, তা কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টনে নেমে এসেছে।

তবে আমদানি কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়া এবং উচ্চ শুল্কের কারণে এ সময়ে রাজস্ব আহরণ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। তবে কমিশন পর্যবেক্ষণে বলেছে, শুল্ক বাড়িয়ে নয়, আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েও আগের মতো রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। কারণ শুল্ক কমলে ভোক্তা পর্যায়ে ফলের দাম কমবে এবং চাহিদা আগের মতো বাড়বে।
প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শুল্ক সর্বোচ্চ প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্রে দেখা গেছে, ফল আমদানিতে সবচেয়ে বেশি শুল্ক গুনতে হচ্ছে বাংলাদেশকেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ফল আমদানিতে শুল্ক প্রায় ৬০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং নেপালে মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশে এই হার ১২১ শতাংশের বেশি, যা আমদানিকারক ও ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধানে অস্বস্তি ও বাজারের অসঙ্গতিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা বাজারের মূল্যের মধ্যে প্রতি কেজিতে অস্বাভাবিক ব্যবধান রয়েছে। যেমন; পাইকারিতে যে কমলার দাম ৩২৫ টাকা, খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। কমিশন মনে করে, খুচরা পর্যায়ে মুনাফার হার আরও যৌক্তিক করা হলে ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা সম্ভব।
কমিশনের সুপারিশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় না এমন তাজা ফল- আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও আনার-আমদানিতে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।
আমদানিকৃত তাজা ফলের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণে শুল্ক মূল্যায়ন (আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০০০ অনুসরণ করা যেতে পারে। শুল্ককর হ্রাসের পর রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ও আমদানির পরিমাণও পর্যবেক্ষণ (মনিটরিং) করা যেতে পারে।