ফুটবল বিশ্বে গত এক সপ্তাহ ধরে যে নামটি আলোচনার তুঙ্গে- তিনি হ্যারি কেইন। নিজের জন্মশহর লন্ডনে জীবনের প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পর থেকেই শুরু হয়েছে এক নতুন উন্মাদনা। বয়স ৩৩, আর মাঠের পারফরম্যান্স আর রেকর্ডের খাতা বলছে তিনি কিংবদন্তি। বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে মাঠ মাতানো এই ইংলিশ স্ট্রাইকারকে নিয়ে এখন ইংল্যান্ড জুড়ে চলছে অন্য এক জল্পনা- তিনি কি তবে খুব শিগগিরই পেতে চলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব ‘নাইটহুড’? যুক্তরাজ্যের সরকারের তরফ থেকেও এমন গুঞ্জনে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। কিং চার্লসের হাত থেকে যদি এই সম্মাননা আসে, তবে অদূর ভবিষ্যতে ফুটবলপ্রেমীরা তাকে ডাকবেন ‘স্যার হ্যারি কেইন’ নামে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের এই রাজকীয় সম্ভাবনার কথা খোলামেলাভাবেই বলেছেন কেইন। মৃদু হেসে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই না বলবো না-বিষয়টি আমি সত্যিই খুব মূল্যায়ন করি। যদি এমন কিছু হয়, তবে তা হবে অবিশ্বাস্য এবং দারুণ গর্বের। তবে এই মুহূর্তে আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি দূর এগোতে চাই না।”
‘স্যার হ্যারি কেইন’ নামটি কেমন শোনাচ্ছে-এমন প্রশ্নে কেইনের সাবলীল জবাব, “শুনতে তো ভালোই লাগে। তবে সবাই যখন হঠাৎ করে ‘স্যার’ বলে ডাকবে, তখন বিষয়টি কিছুটা অদ্ভুত লাগবে। তাই আপাতত কেবল ‘হ্যারি’ নামেই থাকতে চাই।”
ব্যালন ডি’অরের সেই জাদুকরী সপ্তাহ ও স্নায়ুচাপ
গত সোমবারের সেই স্মরণীয় রাতটির কথা স্মরণ করে কেইন বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি এক অভাবনীয় সপ্তাহ ছিল। সোমবারের সন্ধ্যাটি ছিল অবিশ্বাস্য! ম্যাচ খেলার সময়ের চেয়ে সেদিন স্নায়ুচাপ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক প্রতীক্ষা করতে হয়েছিল, মনে মনে কল্পনা করছিলাম-সত্যিই যদি আমি জিতি, তবে কেমন অনুভূতি হবে। পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং ভক্তদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছি, তা প্রায় অভিভূত করার মতো। অনুষ্ঠান শেষে কাছের মানুষদের নিয়ে চমৎকার একটা রাত কেটেছে। আমি এখনো পুরো বিষয়টি হজম করার চেষ্টা করছি।” মাঠে সতীর্থদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার পাওয়ার অভিজ্ঞতাটি কেইনের জন্য একটু অন্যরকম ছিল। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ না করা এই তারকা হাসিমুখে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটু অদ্ভুত। আমি সাধারণত এসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পছন্দ করি না। যখন গা-গরমের জন্য মাঠে নামলাম আর সবাই করতালি দিচ্ছিল, তখন বেশ লজ্জাই লাগছিল। তবে আমি বুঝতে পারছি এটি দারুণ এক প্রাপ্তি।’
সতীর্থদের জন্য বিশেষ উপহারের ঘোষণা
ম্যাগডেবার্গের বিপক্ষে ৬-১ গোলের কাপ ম্যাচে কোচ তাকে বিশ্রামে রাখেন এবং তিনি বেঞ্চেই ছিলেন। তবে মাঠে নামার আগে সতীর্থদের দেয়া সংবর্ধনা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ভোলেননি তিনি। কেইন হাসতে হাসতে বলেন, ‘দলের অনেকেই ঘড়ি বা এ জাতীয় কিছু উপহার চেয়েছে। তাই বায়ার্ন এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য আমাকে সুন্দর কিছু একটা বেছে নিতেই হবে। আমি নিশ্চিতভাবেই সবার জন্য দারুণ কিছু উপহারের ব্যবস্থা করবো।’
পরিবারকে কাছে পাওয়ার প্রতীক্ষা
এই পুরো সপ্তাহের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসার অপেক্ষায় আছেন কেইন। স্ত্রী কেটি ও সন্তানরা এই সপ্তাহে লন্ডনে রয়েছেন। আগামী শুক্রবার বেশ কয়েকদিন পর আবার তাদের সঙ্গে দেখা হবে কেইনের। ট্রফিটি তাদের হাতে তুলে দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। ব্যালন ডি’অর ট্রফিটি বেশ ভারী! আমি জানি ওরা এটি নিয়ে খেলা করার চেষ্টা করবে, তাই এবার ট্রফিটির ওপর বাড়তি নজর রাখতে হবে বৈকি।’
