মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চাঞ্চল্যকর শাবানা বেগম (২৮) হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে ৭ বছর ও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা প্রথম জজ আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় দেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ১৪ জন আসামির মধ্যে চারজনকে ফাঁসি ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্য দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস প্রদান করেন। এই মামলায় তিনজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন- পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে মো. নাসির মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫) এবং মৃত মতন মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩০) ও দুলাল মিয়া (২৬)। মামলার অপর দুই আসামি মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়া (৫০)কে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জয়নাল আবেদীন (৫৫)কে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তাদের পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার মিয়া, মো. আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৭ই এপ্রিল শ্রীমঙ্গলের ভুনবীর ইউনিয়নের পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামে বাড়ির পানি নিষ্কাশন নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সৎভাই ও তার স্বজনরা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শাবানাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. হেলাল মিয়া ১৪ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অপরদিকে, বাদী পক্ষের আইনজীবী মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল ওয়াহিদ ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর কামরুল ইসলাম ও বাদী পক্ষের স্বজনরা দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলাটির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের মধ্যদিয়ে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা বাড়বে।
