নাম পাল্টে ১৩ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে ধরা

নাম পাল্টে ১৩ বছর আত্মগোপনে, অবশেষে ধরা

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল বিশ্বাসকে ১৩ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস পরিচয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় ব্যবসা করছিলেন তিনি। বুধবার রাতে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার আলম মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চঞ্চল ঝিনাইদহ শহরের ভুটিয়ারগাতী এলাকার জহর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ছোট কামারকুণ্ডু গ্রামের ব্যবসায়ী খন্দকার সুলতান আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ঝিনাইদহ সিআইডি’র পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আখতার হোসেন মিনা জানান, সুলতান আহমেদের পুলিশ লাইন্সের সামনে গ্রিলের দোকান ছিল।

পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। চুয়াডাঙ্গায় একটি ঠিকাদারি কাজের পাওনা টাকা নিয়ে সুলতানের সঙ্গে চঞ্চলের বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০১৩ সালের ২৯শে জুন সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সুলতানকে ডেকে নেন চঞ্চল। পরদিন ৩০শে জুন সকালে ঝিনাইদহের উদয়পুর গ্রামের মাঠ থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বাদী হয়ে চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন চঞ্চল। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ই জুন চঞ্চল বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর আলম নামে দু’জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

পরে মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আসামিরা উচ্চ আদালতে আবেদন করে। এতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। গত মাসে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন। আখতার হোসেন মিনা বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চঞ্চলের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নাম পরিবর্তন করে সুজা বিশ্বাস পরিচয়ে আশুলিয়ায় ব্যবসা করছিলেন। মামলার অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ২০২২ সালে মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তে নতুন কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। গ্রেপ্তার চঞ্চলকে ঝিনাইদহ সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।