সড়কের টেন্ডারের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারিনি। এখানে অভিজ্ঞতার শর্তের কারণে একই লোক বারবার কাজ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান। গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) ‘এনার্জি ফর চেঞ্জ’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়কের প্রধান সমস্যা যানজট। এ ছাড়া দুর্ঘটনা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির পরিবেশ দূষণ। আগে ডাম্পিং করে ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যেতো না। এখন স্ক্যাপিং নীতিমালা করা হচ্ছে, দুই-তিনবার অপরাধ করলে স্ক্যাপিং করা হবে। তিনি আরও বলেন, আগে নিয়ম ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে ১ মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। কেউ মারা গেলে তার পরিবারের শোকের মধ্যেই এক মাস চলে যায়। তাই এই সীমা বাড়িয়ে ৩ মাস করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোস্টেশন মিরপুর-১০ চালুকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, বলা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকার উপরে খরচ হবে। এক বছরের মতো সময় লাগবে। আমরা মাত্র ১৮ কোটি টাকা খরচে করে ৩ মাসে চালু করেছি।
বিদ্যুতের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে যাতে ভবিষ্যতে দুর্নীতি না হয় সেই বিষয়টি সীমিত করা হয়েছে। তবে দুর্নীতি নির্মূল করা কঠিন বলেও তিনি মনে করেন। দুর্নীতি কীভাবে হয়েছে তার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত ওঠে এসেছে। তিনি বলেন, দেশ জ্বালানি সংকটের মধ্যে আছে। সরকারের মেয়াদ সংক্ষিপ্ত হওয়ায় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। তবে তিনি একটি চিঠি রেখে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বলেন, কোন জায়গা থেকে শুরু করেছি এবং কোথায় রেখে যাচ্ছি তা বর্ণনায় থাকবে।
তার অধীনে থাকা রেলপথের মূল সমস্যা লোকোমোটিভ সংকটকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, লাইন অনেক হয়েছে, কোচ নেই, লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) নেই। আজকে অর্ডার দিলে লোকোমোটিভ পেতে ২ বছর সময় লাগে। চীনা সরকারকে বলেছি ২০টা ইঞ্জিন ফ্রি দেয়ার জন্য। কোচের বিষয়ে ভারতীয় কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ২০০ ব্রডগেজ কোচ আসবে, প্রথম ২০টি আগামী মার্চে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আগে ১ টাকা আয় করতে আড়াই টাকা খরচ হতো, এখন ১.৮৪ টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। রেলওয়ে হাসপাতাল চালায়, এখানে শুধু রেলের লোকজন সেবা পেতো। আমরা চুক্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে। এখানে সর্বসাধারণ সেবা গ্রহণ করছে। সময়ের অভাবে পার্বতীপুর ও সৈয়দপুরে রেলের ওয়ার্কসপকে কার্যকর করা যায়নি। ডিপিপি করেছি, অর্থায়নের কারণে এগুনো যায়নি। পরবর্তী সরকার কাজটি এগিয়ে নিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন বলা হয়েছিল দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। কিন্তু এখন ভালো রয়েছে। আমরা অনেক মন্ত্রণালয়ের বকেয়া কমিয়ে এনেছি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সেই সময়ের তুলনায় ভালো হয়েছে।
উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার আসবে। যে সরকার আসবে তা স্থিতিশীল হবে এবং পূর্ণ মেয়াদ অতিবাহিত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সড়কের টেন্ডারের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারিনি: ফাওজুল কবির
স্টাফ রিপোর্টার
১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
