ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের

ফন্ট সাইজ:

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়ম, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা, ভোট দেয়ার আগেই ভোট দেয়া হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং পরিচয়পত্র ছাড়া প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের অভিযোগ তুলেছেন। এসব অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অবশিষ্ট সময়ে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও বাস্তবে কোনো ফল দেখা যায়নি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা বিষয়গুলো দেখছে, কেন্দ্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছেন এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম সরাসরি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওই প্রার্থী তার বাড়িতেও যাতায়াত করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানানো হলেও তাকে অপসারণ করা হয়নি।
ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট ইতোমধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। এ ঘটনার ভিডিও রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারি দলের প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা সরকারি চাকরিজীবী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে দাড়িপাল্লার পক্ষে কাজ না করতে এবং ওই প্রতীকে ভোট না দিতে চাপ দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক ভোটারকে এভাবে চাপের মুখে রাখা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ও প্রতীকের রং ব্যবহার নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী দুপুর ২টার আগে প্রচারণা চালানোর কথা নয় এবং পোস্টার ও প্রতীকের রং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু এর পরও দুপুর ২টার আগে মাইকিং করা হয়েছে এবং ধানের শীষের প্রতীক রঙিন করে ব্যবহার করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও সহকারী পোলিং অফিসারদের অনেকের কাছে পরিচয়পত্র বা ব্যাজ দেখা যায়নি।
একটি কেন্দ্রে পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজ হাতে নাম লিখে ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিচয়পত্র ও ব্যাজ ছাড়া যারা ভোটগ্রহণ করছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কি না, নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের লোকÑতা তদন্ত করা দরকার। এসব ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের মাধ্যমে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তাদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তদন্তের দাবি জানান গোলাম পরওয়ার।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটার ব্যালট পেপার নিয়ে ভোট দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সই ও সিল দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু একটি মুড়ি বইয়ে আগে থেকেই ২২টি সিল ও স্বাক্ষর পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসব সিল ও স্বাক্ষর আগে থেকে করে রাখার উদ্দেশ্য হতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে জাল ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যালট সরবরাহ করা যায় এবং অনিয়মে বাধা সৃষ্টি না হয় বলেও জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে ভোটকেন্দ্রে সেনা মোতায়নের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের কথা বললেও তাদের কাছে বাহিনীর সংখ্যা মুখ্য বিষয় নয়। বরং বাহিনীগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনের একটি বড় অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে এবং মানুষ তাদের এখনো তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ মনে করে। ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া, জাল ভোট, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো বিষয়গুলোতে সেনাবাহিনী ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুত, ফলাফলপত্রের যোগফল ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আলাদা। তবে ভোট কাস্টিং পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।