হাইতিতে নিখোঁজ চার সেনাকে উদ্ধার করতে ২ হাজারের বেশি সেনা পাঠিয়েছে এল সালভাদর। ক্যারিবীয় দেশটিতে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তারা নিখোঁজ হন। এই বিশাল সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে। তিনি হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-এমের সঙ্গে এই সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। বুধবার এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সেনারা হাইতিতে গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে চলমান নিরাপত্তা প্রচেষ্টাতেও সহায়তা করবে। হাইতিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং-বিরোধী সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এল সালভাদরের বিমান বাহিনীর ওই চার টেকনিশিয়ান। তাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্স (জিএসএফ)-এর ওই চার সেনা একটি সাঁজোয়া যানে করে তাদের ঘাঁটিতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ক্রোয়ে-দে-বোকোয়েট নামক এলাকায় তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার শিকার হন। এখন পর্যন্ত কোনো গ্যাং এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই বড় আকারের অভিযানটি বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন পেয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে হাইতি নিখোঁজ সেনাদের দাবি করে চারটি মৃতদেহ বিশেষ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছিল। তবে বুকেলে বলেছেন, মৃতদেহগুলো তাদের সেনাদের নয়। তিনি জানান, এর মধ্যে একটি শিশুর মৃতদেহ ছিল এবং অন্যটির গায়ে ভিন্ন দেশের সামরিক পোশাক ছিল। গত সপ্তাহে বুকেলে এক্সে দেয়া এক পোস্টে হাইতির গ্যাংগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, সালভাদরীয়দের মুক্তি না দিলে তিনি এল সালভাদরে গ্যাংদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, হাইতিতেও তার পুনরাবৃত্তি করবেন।
গত বছরের অক্টোবরে হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা মোকাবিলায় জিএসএফ-এর ক্ষমতা বাড়ানোর অনুমোদন দেয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে গ্যাং নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ঢুকতে এই বহুজাতিক বাহিনী বেশ সংগ্রাম করছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ বছর হাইতিতে গ্যাং-সম্পর্কিত সহিংসতায় ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং রাজধানীর বড় অংশ সশস্ত্র গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গ্যাং সহিংসতায় বিপর্যস্ত হাইতি। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়েজ নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
