ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও সহিংস জমায়েতে ভাঙচুরের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধানসংবলিত একটি বিল সিনেটে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত ভোটে বিলটির পক্ষে ২২৯ জন এবং বিপক্ষে ১০৫ জন সিনেটর ভোট দেন। ভোটদানে বিরত ছিলেন ৮ জন।
‘কাস্যর-পেয়র’ (Casseurs-payeurs) নামে পরিচিত এই বিলের লক্ষ্য হলো, বিক্ষোভ বা জমায়েতের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুযোগ বাড়ানো। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক দায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
তবে প্রত্যেক বিক্ষোভকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। বিলটিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়ানি দায় নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে কোনো সহিংস জমায়েতে উপস্থিতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিলটির সমর্থকদের বক্তব্য, বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর ও সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাদের মতে, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক বোঝা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কিংবা করদাতাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে, বিলটির সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, যৌথ দেওয়ানি দায়ের বিধান ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হলে সহিংসতায় সরাসরি অংশ না নেওয়া ব্যক্তিরাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। এতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তাদের মত।
ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্তে সামাজিক ভাতা থেকে অর্থ কর্তনের সুযোগ রাখার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে কোন পরিস্থিতিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় এই বিধান কার্যকর হবে, তা আইনটির চূড়ান্ত রূপ ও প্রয়োগবিধির ওপর নির্ভর করবে।
সিনেটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। পরবর্তী ধাপে ফ্রান্সের জাতীয় সংসদে বিলটি বিবেচনা করা হবে। সেখানে সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে প্রস্তাবিত বিধানগুলোকে কার্যকর আইন হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
ফ্রান্সে বিক্ষোভের অধিকার ও জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিলটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন—চূড়ান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
ফ্রান্সে বিক্ষোভে ক্ষয়ক্ষতি, দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিল পাস
আব্দুল মোমিত (রোমেল), প্যারিস থেকে
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৩ঃ১৯ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
