ইইডির ২ প্রকৌশলীর দুর্নীতি, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ইইডির ২ প্রকৌশলীর দুর্নীতি, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ফন্ট সাইজ:

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেয়া হয়। দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মেট্রোর সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি এবং ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবু সাঈদ আকন্দ।

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের সই করা অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনি ও সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আবু সাঈদ আকন্দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসহ অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

তদন্তের মুখে পড়া দুই কর্মকর্তার একজন আবু সাঈদ আকন্দ। তিনি শিমুল আকন্দ নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি ডিপ্লোমা প্রকৌশল পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য শিমুল আকন্দ। ৫ই আগস্টের আগে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

নানা অভিযোগের মুখে গত ৩০শে জুলাই তাকে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে রংপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় গত ৮ই অক্টোবর তদবির করে আবার ঢাকায় ফেরেন শিমুল আকন্দ। বর্তমানে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী।

অভিযোগে বলা হয়, এর আগে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওই অঞ্চলে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ভাইয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মা কনস্ট্রাকশনকে’ কাজ পাইয়ে দিতেন শিমুল আকন্দ। অনেক সময় কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও কৌশলে আগাম বিল তুলে দিয়ে ঘুষ নিতেন তিনি।

নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি নেয়ার অভিযোগও রয়েছে শিমুল আকন্দের বিরুদ্ধে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেয়া হয়। ওই তালিকায় ২৩ নম্বরে ছিলেন শিমুল আকন্দ। পদ শূন্য না থাকলেও এসব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। পরে তাদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে পদায়ন করা হয়।

ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে দীর্ঘদিন সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মনিরুজ্জামান মনি। ঢাকার বাড্ডার রহিমুল্লাহ মোল্লা মাদ্রাসার উন্নয়নকাজের দরপত্র পাইয়ে দিতে দুই ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজনের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেওয়ার পর আরেকজন আট লাখ টাকা দেয়ায় তাকে কাজ পাইয়ে দেন মনি।

গত ১৩ই আগস্ট ঘুষ দিয়েও কাজ না পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্লাস ওয়ান ট্রেডার্স এ বিষয়ে ইইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান প্রকৌশলী। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই তদন্ত থমকে যায়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘আপস-মীমাংসা’ করে লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘুষের অভিযোগ ওঠার পর তাকে ঢাকা থেকে ‘শাস্তিমূলকভাবে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি করা হয়। তবে সেখানে যোগ দিতে শুরু থেকেই গড়িমসি করেন মনি। পরে বাধ্য হয়ে সেখানে ‘নামমাত্র’ যোগদান করলেও ঢাকায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি। তদবির করে ঢাকায় ‘লাভজনক’ পদে ফিরতে এবার একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্যের আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) সংগ্রহ করেছেন তিনি। ওই দুই ডিও লেটারে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য মনিরুজ্জামান মনিকে ‘বিএনপিপন্থি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান বলেন, ওই দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।