সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম থেকে সরকারবিরোধী পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারবিরোধী মতামত পোষণ করে যেসব পোস্ট ইনস্টাগ্রামে করা হচ্ছে, তা সরিয়ে দেওয়ার পেছনে ভারত সরকারকেই সরাসরি দায়ী করেছেন তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠিাতা অভিজিৎ দীপকে। বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিজিৎ লিখেছেন, সরকার জোর করে হাজার হাজার সমালোচনামূলক পোস্ট রোজ সরিয়ে দিচ্ছে। দীপকে অভিযোগ করেছেন যে, ভারত সরকার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে সরকারবিরোধী পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই "সেন্সরশিপ" কেবল অবিশ্বাসের আগুনকেই আরও উসকে দেবে। বরং এই সেন্সরশিপের ফলে সেই মানুষগুলোর মধ্যেই আরও বেশি অবিশ্বাসের সৃষ্টি হতে পারে, যাদের কাছে সরকারের জবাবদিহি করার কথা।
বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারীর অভিযোগের মধ্যেই সিজেপি নেতাদের পক্ষ থেকে এই সেন্সরশিপ বা সেন্সর করার অভিযোগটি সামনে আনা হয়েছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, কিছু পোস্ট সরিয়ে ফেলার ঘটনায় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
দীপকের সহযোগী আশুতোষ রাঙ্কাও অভিযোগ করেছেন যে, হাজার হাজার পোস্ট আটকে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ভারতে হাজার হাজার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
দীপকে বলেছেন, ”ইনস্টাগ্রামে এই দমন-পীড়ন কোনো কাজে আসবে না! সরকার প্রতিদিন হাজার হাজার পোস্ট ও অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলছে, কিন্তু তারা একটি মৌলিক বিষয় বুঝতে পারছে না। ইনস্টাগ্রাম কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ তাদের প্রশ্নগুলো তুলে ধরছে। এই প্রশ্নগুলোর পেছনের কারণগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডির অনেক বাইরে বিদ্যমান। তাই অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেই সেই কারণগুলো অদৃশ্য হয়ে যাবে না।
উল্লেখ্য, সিজেপি একটি ইনস্টাগ্রাম আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এবং দ্রুত ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কয়েক দিনের মধ্যেই এর অনুসারীর সংখ্যা লক্ষাধিক হয়ে যায়। এই আন্দোলনটি ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। সম্প্রতি, এই প্ল্যাটফর্মটি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মুখ্য নির্বচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছে।
এদিকে, আইনি সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভল’ জানিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া নির্বাচন কমিশনের হলফনামা নিয়ে তাদের একটি পোস্ট ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তারা লিখেছে, “সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের হলফনামা নিয়ে ‘লাইভল’-এর অফিসিয়াল পেজে একটি রিল পোস্ট করা হয়েছিল, যা ইনস্টাগ্রাম সরিয়ে ফেলেছে। এই রিলটিতে কেবল নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। ইনস্টাগ্রাম জানিয়েছে, ‘এই বিষয়বস্তু সীমাবদ্ধ করার জন্য আমরা একটি আইনি অনুরোধ পেয়েছি’।”
