বড় সাইবার হামলায় ফাঁস যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তার তথ্য

বড় সাইবার হামলায় ফাঁস যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তার তথ্য

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক তথ্য ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে নিয়োজিত হাজার হাজার কর্মকর্তার নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং দায়িত্বের বিবরণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রায়ই মুখ ঢেকে দায়িত্ব পালন করেন এবং নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে এমন কোনো পরিচয়পত্রও পরেন না। বুধবারের এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন সরকারের কোনো সংস্থাকে লক্ষ্য করে তৃতীয়বারের মতো তথ্য ফাঁস বা সাইবার হামলা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আরও তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে জানানো হবে। কর্মীদের তথ্য ফাঁস করে তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নজিরবিহীন। ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামের একটি গোষ্ঠী ডিএইচএসের তথ্য হাতিয়ে নেয়। পরে সাংবাদিক ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক মাইয়া ক্রিমিউ এবং ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডসিক্রেটস) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেগুলো অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। তথ্যগুলো ‘আইসপিক’ (আইসিইপিক) নামের একটি ডাটাবেজে রাখা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি কাজ করেন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) বিভাগে। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা কাজ করেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টে (আইসিই)। অন্যান্য নথিতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সিতে কর্মরত ব্যক্তিদের তথ্যও রয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি এমন কয়েক ডজন অভিযানের নামও রয়েছে। এসব অভিযানের নেতৃত্বে থাকা ও অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিবরণও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সেলব্রাইট ও পালান্টিরের সরবরাহ করা প্রযুক্তিও রয়েছে। অনলাইনে দেয়া এক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, ডিএইচএসের প্রত্যেক কর্মকর্তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা এই তথ্য ফাঁসের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তাদের লক্ষ্য ছিল পরিচয়ের গোপনীয়তার বদলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

ডিডসিক্রেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট বলেন, তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি অসাধারণ হলেও এর সরলতা বিভ্রান্তিকর। কারণ, এতে গোপন ও ছদ্মবেশী অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সরকারের তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করার কার্যক্রম এবং ব্যর্থ ব্লুলিকস তদন্তের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় উঠে এসেছে। পাশাপাশি ডিএইচএসের ক্রমবর্ধমান প্রত্যর্পণ ও বহিষ্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘ব্লুলিকস’ বলা হয়। সে সময় ফাঁস হওয়া তথ্যও প্রকাশ করেছিল ডিডসিক্রেটস। ডিএইচএসের নথি হ্যাক করার পেছনে আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি দায়ী করেছে ডিপার্টমেন্ট অব পিসের একজন মুখপাত্র। বুধবার তিনি লিখেছেন, ১৭ জুলাই মার্কওয়েন মুলিন বলেছিলেন, তিনি চাপ আরও বাড়াচ্ছেন। এমনটা করলে আইসিইর সঙ্গে এটাই ঘটে।’

গত মার্চে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মন্ত্রী হন মুলিন। ডিপার্টমেন্ট অব পিস জানিয়েছে, ওকটা নামের একটি সিঙ্গেল সাইন-অন সেবার মাধ্যমে তারা ডিএইচএস কর্মকর্তাদের প্রোফাইলের তথ্য পেয়েছে। ওকটা একটি জনপ্রিয় অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্মে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরা প্রবেশ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে এটি ব্যবহার করে। ওকটার এক মুখপাত্র বলেছেন, কোম্পানিটি এ সংক্রান্ত দাবিগুলো সম্পর্কে অবগত। তবে তিনি বলেন, ওকটা নিরাপদ রয়েছে এবং আমাদের তথ্য বা সিস্টেমে অনুপ্রবেশের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।