ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক ও অবিশ্বাস্য এক হারের তেঁতো স্বাদ পেলো প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। ইংলিশ লীগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে চতুর্থ স্তরের দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিলো গানাররা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ গোলে ড্র থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে নাটকীয় এই অঘটনের জন্ম দিলো স্বাগতিক ফ্লিটউড। ম্যাচের পর একে ‘অত্যন্ত দুঃখের দিন’ বলে মন্তব্য করেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা।
ম্যাচের শুরু থেকে লীগ টু-তে ১৮তম স্থানে থাকা ফ্লিটউডের বিপক্ষে নিজেদের সেরা একাদশ নামাননি গানার বস। আসন্ন রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচের কথা মাথায় রেখে একাদশে ৯টি পরিবর্তন আনেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সী মার্লি স্যালমন ও ১৬ বছর বয়সী ম্যাক্স ডাউম্যানের মতো তরুণদের ওপর ভরসা রাখেন আর্তেতা। আর এই সুযোগটিই দারুণভাবে কাজে লাগায় ‘কট আর্মি’ খ্যাত ফ্লিটউড। ম্যাচের ২১ মিনিটে গোলকিপার ইলান মেসলিয়ের সামনে তরুণ স্যালমনের রক্ষণাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান অ্যারন লুপালো-বি। নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে ফ্লিটউডকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন তিনি।
পিছিয়ে পড়ে বল দখলে আধিপত্য দেখালেও প্রথমার্ধে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি আর্সেনাল। বিরতির পর মাঠে নেমে দলকে সমতায় ফেরান স্ট্রাইকার ভিক্টর ইওকেরেস। ৫০ মিনিটে সিডাচ ও’নিলের বাড়ানো পাস থেকে ডিফেন্ডারদের সঙ্গে লড়াই করে খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান এই সুইডিশ ফরোয়ার্ড।
তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা খায় আর্সেনাল। ৮৫ মিনিটে ফ্লিটউডের মিডফিল্ডার হ্যারিসন নিয়ালের সাথে বল দখলের লড়াইয়ের পর চড়াও হয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বিস্ময় বালক ডাউম্যান। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আর্সেনালের হয়ে ব্রুনো গিমারায়েসের শট রুখে দেন ফ্লিটউড গোলকিপার জে লিঞ্চ। অন্যদিকে ফ্লিটউডের পক্ষে কোনর হোই সুনিপুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে চরম হতাশা প্রকাশ করে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা বলেন, ‘পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার জন্য ফ্লিটউডকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের দিন। খেলোয়াড়দের মনোভাব কিংবা নিবেদনে কোনো ঘাটতি ছিল না, কিন্তু আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এটিই ফুটবল, আর এই প্রতিযোগিতার সৌন্দর্যই এমন।’
অন্যদিকে, ফ্লিটউড কোচ ম্যাট লর আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাতে আমরা দেশের সেরা ও সবচেয়ে গোছানো দলকে হারিয়েছি। ফ্লিটউডের সমর্থক ও শহরবাসীকে নিয়ে আমি আজ ভীষণ গর্বিত।’ ছোট এই ক্লাবটির ঐতিহাসিক জয়ে স্টেডিয়ামে নেমে উৎসবে মেতে ওঠেন হাজারো সমর্থক।
