রেকর্ড ১৮টি আসন পেতে পারে আরব দলগুলো

ইসরাইলের নির্বাচন

রেকর্ড ১৮টি আসন পেতে পারে আরব দলগুলো

ফন্ট সাইজ:

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে আরব দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে। বুথফেরত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেয়ার হার গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১২০ আসনের নেসেটে জয়েন্ট লিস্ট এবং রা‘ম-এর মতো আরব দলগুলো রেকর্ড সংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা ।

বুথফেরত জরিপের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি করে আসন নিয়ে সমতায় রয়েছে। মঙ্গলবার চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের মধ্যে ভোট দেয়ার হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। এটি ১৯৯৯ সালের পর একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড। রা‘ম বা ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তার দলসহ নেতানিয়াহু বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাবে। বর্তমানে নেসেটে রা‘ম দলের পাঁচটি আসন রয়েছে এবং তারা ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জোট সরকারে ছিল। আব্বাস জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে প্রধান দুটি জোটই তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ইসরাইলের কূটনৈতিক এবং লেখক অ্যালন পিংকাস জানান, আইজেনকোটের মতো দলগুলোর জন্য সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। কারণ তারা প্রচারণার সময় আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তিনি বলেন, আরবদের বাইরে রাখা সম্ভব নয়। এদিকে মঙ্গলবার শেষ মুহূর্তে নেতানিয়াহু এবং তার কট্টর ডানপন্থি জোট তাদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিতে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালায়। তারা ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ব্যাপক হারে ভোট দেয়ার বিষয়টিকে সামনে আনে। আরব রাজনীতিকরা এটিকে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে নিন্দা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিকুদ পার্টির পতাকা লাগানো গাড়িগুলো জেরুজালেমে আজান বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং সমর্থকদের ভোট দিতে বলে, কারণ ‘আরবরা ভোট দিচ্ছে’। নেতানিয়াহু নিজেও আরবদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি পোস্ট করে তার সমর্থকদের সতর্ক করেছেন।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে সার্বিক উপস্থিতিও ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ, যার হার ৭৭.৭ শতাংশ। ইসরাইলের এক কোটি জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ হলো ফিলিস্তিনি নাগরিক। আগে তারা ইহুদি ইসরাইলিদের চেয়ে কম ভোট দিতেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহ এই নির্বাচনকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের জন্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার মুহূর্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ১০০টিরও বেশি আইন পাস হয়েছে এবং তারা রাষ্ট্রীয় তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হন। তাই নিজেদের পরিস্থিতি বদলাতে এবং পদ্ধতিগত বৈষম্যের জবাব দিতে এবার তারা ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছেন।