রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে প্রস্তাবিত সচিবালয় স্থাপনের জন্য ‘সয়েল টেস্টিং’ এবং ‘এশিয়া বাণিজ্যমেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সয়েল টেস্টিংয়ে ব্যবহৃত যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতিবাহী গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে সয়েল টেস্টে ব্যবহৃত দু’টি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা মাঠে অবস্থান নিয়ে সেখানে চলমান মাটি পরীক্ষার কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় মাঠে টানানো গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সাইনবোর্ড ভেঙে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি সয়েল টেস্টের কাজে ব্যবহৃত নমুনা সংগ্রহের দু’টি গাড়িও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে আসেন। পরে সাইনবোর্ডটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে ২৮শে অক্টোবর উদ্বোধনের কথা থাকা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা বন্ধের দাবি জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাঠ পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নিতে তিনদিনের আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গবেষণা মাঠ থেকে ফিরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেন তারা। জবাবে উপাচার্য গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান।
বাণিজ্যমেলার মাঠ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আমাদের কমিটির সিদ্ধান্ত বারবার জানানোর পরেও সে অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বাণিজ্যমেলার মাঠ সংক্রান্ত আমাদের একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি আমাদের রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে আমাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শুরু করবো। আজ বা আগামীকালের মধ্যেই আমরা তাদের সঙ্গে বসবো এবং যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করা হবে।
এর আগে গত ১৫ই অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শেকৃবি’র শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিন মাঠটি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেন তারা।
