স্বর্ণের চেইন দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করলেন স্বামী

স্বর্ণের চেইন দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করলেন স্বামী

ফন্ট সাইজ:

১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজছিলেন স্বামী। পোড়া রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে অবশেষে মিললো কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ। সঙ্গে পাওয়া স্বর্ণের চেইন দেখে সেটি স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার বলে শনাক্ত করলেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তবে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। একই দিনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে সামনে এসেছে নিখোঁজ আরেক পর্যটকের সন্ধান। কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ১৭ই অক্টোবর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন পর্যটকরা। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় অনেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।

শেষ পর্যন্ত আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান ১০ জন। আহত হন আরও কয়েকজন। আগুনে রিসোর্টটির বড় অংশ পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেদিন উদ্ধার করা মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে পাঁচ পরিবারের স্বজনদের কাছে ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ বুঝে পান। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষিকা মুক্তার কোনো সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার হওয়া ১০ জনের ডিএনএ নমুনার সঙ্গেও তার নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে আবারো তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। একপর্যায়ে রিসোর্টের দ্বিতীয় তলার ধ্বংসস্তূপ থেকে কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সঙ্গে পাওয়া স্বর্ণের চেইন দেখে ফয়সাল সেটি তার স্ত্রী মুক্তার বলে শনাক্ত করেন। দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। তবে স্বামীর শনাক্তকরণের ভিত্তিতে দেহাবশেষটি মুক্তার বলে ধারণা করা হলেও ডিএনএ পরীক্ষার পরই পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হবে। নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭) ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে তিনি টুপটুপ রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ১০টি মরদেহ উদ্ধারের পরও মুক্তার সন্ধান না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর সেই অপেক্ষার অবসানের আশা তৈরি হয়েছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কঙ্কালসদৃশ দেহাবশেষটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। সেখানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ওসি জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় প্রথম দিন ধ্বংসস্তূপের সব অংশ তল্লাশি করা সম্ভব হয়নি। সেদিন ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও কিছু আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার মতো নিরাপদ পরিস্থিতি তখন ছিল না। পরে উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পরও একজন পর্যটক নিখোঁজ থাকায় মঙ্গলবার ফের তল্লাশি চালানো হয়।