পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। অপরাধ দমনে আইজিপির বক্তব্য সময়োপযোগী বলে মনে করে সংগঠনটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। পুলিশ সব সময় বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনানুগ দায়িত্ব পালন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ। দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গলসহ প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানে পুলিশের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট কাঠামো রয়েছে। এসব বিধানের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও পুলিশের অঙ্গীকার বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি উল্লেখ করে, পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে একদিকে নৈতিকতাবর্জিত দমননীতি হিসেবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে অন্যদিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় চারজন সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ বাস্তবতা পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা এবং তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে। ফলে পুলিশ সদস্যদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে তারা আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ করে নির্ভীকভাবে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আরও বলা হয়, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা অপরিহার্য। জনগণ পুলিশের কাছে জানমালের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করে। তাই আইনানুগ ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ, বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালন এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব সম্পাদন জরুরি।
বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধ দমনে পুলিশ যদি তার আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে দ্বিধাগ্রস্ত হয়, তবে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার মূল ভিত্তি। আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ, দৃঢ় ও আইনসম্মত বাস্তবায়ন এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতকরণ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করার একটি সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
