২০১২ সালে চীনের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কমিউনিস্ট পার্টির দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শি জিনপিং। এক দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই অভিযান থামেনি। গত বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে দলের গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম প্লেনাম বা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন শুরু হয়েছে, যেখানে দলের প্রতি আনুগত্য ও শৃঙ্খলা সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং দুর্নীতি দমনকে শাসন পরিচালনার একটি স্থায়ী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। যাদের টার্গেট করা হচ্ছে, তারা সত্যিই দুর্নীতিগ্রস্ত নাকি কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আগামী বছর ২১তম পার্টি কংগ্রেসের আগে এটিই দলের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ওই কংগ্রেসে শি জিনপিং চতুর্থ মেয়াদের জন্য দলের প্রধান হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই নিজের কর্তৃত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যে কাউকে সরিয়ে দেয়া তার প্রধান অগ্রাধিকার।
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে তদন্তের আওতায় এনে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া জিনজিয়াংয়ের সাবেক দলীয় সম্পাদক মা জিংরুই এবং চংকিংয়ের সাবেক মেয়র হুয়াং কিফানের মতো নেতারাও পদ হারান। এসব শুদ্ধি অভিযানের ফলে শীর্ষ সামরিক কমিশনে এখন মাত্র দুইজন সদস্য অবশিষ্ট রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব তদন্ত প্রমাণ করে যে আসলে কে ক্ষমতায় আছে এবং এটি দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রয়োগের সবচেয়ে সহজ হাতিয়ার।
